ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর আগের উপকারভোগীর তালিকায় বড় ধরনের অসঙ্গতির তথ্য তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বের এক কোটি উপকারভোগীর তালিকার প্রায় ৫৯ লাখ তথ্য যাচাইয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে উঠে আসে। পরে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ২০ লাখ পরিবারকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করছে। একই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, গত রমজানে ভর্তুকিমূল্যে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ মানুষের কাছে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪ হাজার টনে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ বাড়ছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উৎসব, বিশেষ পরিস্থিতি কিংবা বাজারে চাপ তৈরি হলে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু রাখবে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সবসময় প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকেই সারাদেশে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২১ মে পর্যন্ত শুক্রবার ছাড়া টানা ১০ দিন এই কার্যক্রম চলবে।
টিসিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে প্রতিদিন ৪০০ জন ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন।
এবার ঢাকা মহানগরে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরে ২০টি, অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালনা করা হবে। এই কার্যক্রমের আওতায় মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এবারের ট্রাকসেলে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি লিটার তেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা ট্রাকসেল থেকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন।

