আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার কারণে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট, অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ, ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা ও অবৈধ দখল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সরকার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে টানা ছুটি, ধাপে ধাপে শিল্পকারখানা বন্ধ এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মতো উদ্যোগ নিলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এখনো রয়ে গেছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির কারণে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এছাড়া সোনারগাঁ, মদনপুর, মোগরাপাড়া ও গজারিয়া এলাকায় অবৈধ বাজার, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি ও থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট বাড়াচ্ছে।
ঈদের সময় এই মহাসড়কে প্রতিদিন অর্ধলাখের বেশি যানবাহন চলাচল করে। ফলে টোল প্লাজায় ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
শিমরাইল এলাকায় এবারও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসার প্রস্তুতি চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা হতে পারে চন্দ্রা, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতু এলাকা।
চন্দ্রা ত্রিমোড়ে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়া, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় বাজার ও দোকানপাট, এলেঙ্গায় চলমান ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ এবং যমুনা সেতুর পুরোনো বটলনেক এবারও যানজটের কারণ হতে পারে।
যদিও সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ক্লোভারলিভ ইন্টারচেঞ্জের একটি নতুন র্যাম্প ২০ মে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এতে ঢাকা থেকে বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবু যমুনা সেতুতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেনে উন্নয়নকাজ এখনো চলমান। ফলে রূপগঞ্জ, ভুলতা, গাউছিয়া, কাঞ্চন, নরসিংদী ও আশুগঞ্জ অংশে প্রতিদিনই যানজট হচ্ছে।
মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খোঁড়াখুঁড়ি, খানাখন্দ, অবৈধ পার্কিং, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কের নির্মাণকাজের কারণে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তারগাছ, গাছা, বোর্ডবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে।
টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত যানজট এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। অবৈধ বাজার, রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং এবং বিআরটি প্রকল্পের কাজের প্রভাবও রয়েছে।
পুলিশ বলছে, এবার আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
গত ঈদুল ফিতরে ঢাকা থেকে রংপুর যেতে ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে লাগে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। একইভাবে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ মহাসড়কেও দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়েছিল যাত্রীদের।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। সে হিসেবে ২৪ মে অফিস শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হবে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে যান চলাচল এবং অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এবারের ঈদযাত্রাও বড় ভোগান্তিতে পরিণত হতে পারে।

