ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বৃষ্টি এবং একাধিক দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট দিনভর অব্যাহত থাকায় ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
মহাসড়কের যানজট চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে শুরু হয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে যমুনা সেতুর মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে সেতু এলাকায় একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়া এবং সড়ক দুর্ঘটনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
যমুনা সেতুর কয়েকটি স্থানে দুর্ঘটনার পর যানবাহন সরাতে রেকার ব্যবহার করতে হয়, এতে টোল আদায় কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। পরে সকাল ৮টার পর থেকে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হলেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসেনি।
হাইওয়ে পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত থেকেই মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের গতি আরও কমে যায়। এর মধ্যেই সেতু এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে, যা পুরো রুটে প্রভাব ফেলে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল এলাকায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় মঙ্গলবার থেকেই হাজারো মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। ফলে ভোগড়া থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে পুরো মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ঈদ উপলক্ষে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করায় মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সেতুর দুই প্রান্তে ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথও রাখা হয়েছে, যাতে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যায়।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়ককে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে পুলিশ কাজ করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, দুর্ঘটনা এবং আবহাওয়ার কারণে ধীরগতি তৈরি হলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ মৌসুমে এমন দীর্ঘ যানজট প্রতি বছরই দেখা যায়। পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিকল্প রুট ব্যবহার এবং সময়মতো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ না করলে এই ধরনের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

