দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে জোরালো অভিযান চালিয়ে গত মে মাসে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বিদেশি পণ্য, যানবাহন ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চোরাচালান ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে শত শত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার বিজিবি সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১৭৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে এসব অবৈধ পণ্য আটক সম্ভব হয়েছে।
জব্দকৃত পণ্যের তালিকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রূপা, ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, তৈরি পোশাক, থান কাপড়, প্রসাধনী সামগ্রী, ইমিটেশন গহনা, আতশবাজি, কাঠ, চা পাতা, ব্লেড, সুপারি, কয়লা, পাথর, বালুসহ বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য। এছাড়া মোবাইল ফোন, মোবাইল যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক পণ্য, চশমা, খাদ্যসামগ্রী, চিনি, জিরা, রসুন এবং কৃষিপণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে বিভিন্ন যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, মাহেন্দ্রা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য পরিবহন। পাশাপাশি শত শত গরু ও মহিষও আটক করা হয়েছে, যা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে বিজিবি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ১৬ লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, কোকেন, হেরোইন, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, বিয়ার, গাঁজা, নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, সিরাপ এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদকের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের বিষয় হলো, চোরাচালান পণ্যের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার হয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রাইফেল, ম্যাগাজিন, শতাধিক গুলি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এসব অস্ত্র সীমান্তপথে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে পরিচালিত অভিযানে চোরাচালান ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের মোট ৪৯০ জনেরও বেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য ও মাদক উদ্ধার প্রমাণ করে যে সীমান্তপথে এখনও শক্তিশালী অবৈধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তবে একই সঙ্গে এটি বিজিবির নজরদারি ও অভিযানের কার্যকারিতাও তুলে ধরে। তারা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় আরও জোরদার করা গেলে সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অর্থনীতি, জননিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় চোরাচালান ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বাণিজ্য, মাদক প্রবেশ এবং মানবপাচার প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

