কাদা মাখা খালি পায়ে হাতে বাঁশের একটি কঞ্চি নিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছিলেন সত্তোরর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। শীর্ণজীর্ণ শরীর, হাঁটতে হাঁটতে মাঝেমধ্যে হাঁপিয়ে উঠে সড়কের পাশেই বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন।
আর ওই অবস্থাতেই পথচারীদের কাছে একটি শাড়ি-কাপড় কেনার জন্য কিছু সাহায্য চাইছেন। কেউ দিচ্ছেন, আবার কেউ না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছেন।
বুধবার (২৭ মে) বিকেলে এমন দৃশ্য দেখা যায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা সড়কে।
কাছে গিয়ে কিছু সহযোগিতা করে কথা বললে বৃদ্ধা নিজের নাম আমেনা বেগম বলে জানান।
স্বামীর নাম বলতে প্রথমে অনীহা প্রকাশ করলেও পরে আস্তে করে বলেন, ‘লাল মামুদ।’
স্থানীয় উচাখিলা ইউনিয়নের রুপিয়ারচর গ্রাম তার বাড়ি। প্রায় ১০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। স্বামী ছিলেন মানসিক প্রতিবন্ধী।
নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েই রাত কাটান। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তবে জামাইও ভিক্ষাবৃত্তি করেন বলে জানান আমেনা। তাদের অবস্থাও খুবই অসচ্ছল।
ঈদ উপলক্ষে কোনো সহায়তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে আমেনা বেগম বলেন, ‘হ, ৫ সের চাউল পাইছি।
একজনে একটা কাগজে লেইখ্যা দিলে পরিষদের বাড়াততে গিয়া আনছি।’
পরদিন ঈদ, নতুন কাপড় নেই? কী খাবেন—এমন প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘ঈদ আইলে আমার কী? আমার তো বেকবেলায় হমান। মানুষ তো আগের মতো গোস্ত দেয় না। এর লাইগ্যা যাইও না। কপালে থাকলে খাইয়ামনে।’
সর্বশেষ কবে গোস্ত দিয়ে ভাত খেয়েছেন জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ‘কিবায় কইয়াম—এইডা তো মনে নাই।’
এই কথা বলেই আবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান আমেনা বেগম। হাতে বাঁশের কঞ্চি নিয়ে ক্লান্ত পায়ে হাঁটা শুরু করেন সামনের পথে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

