কোরবানির ঈদ ঘিরে শরীয়তপুরে এখন চলছে পশুর চামড়া সংরক্ষণের ব্যস্ততা। বিভিন্ন এলাকায় সংগ্রহ করা চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই ব্যস্ততার মাঝেও চামড়া ব্যবসায়ীদের মুখে নেই স্বস্তি। বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে খুচরা পর্যায়ের সংগ্রহকারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জানা গেছে, শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। অথচ কয়েক বছর আগেও একই ধরনের চামড়া ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতো। বাজারে এমন মূল্যপতনে ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
সরকার এবার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫২ থেকে ৫৬ টাকা এবং খাসির চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘোষিত সেই মূল্য মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না। তাদের মতে, কাগজে দাম নির্ধারণ করা হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে।
শরীয়তপুর পৌরসভার ঋষিপাড়া এলাকার একটি গোডাউনের সামনে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন এবং লবণজাতকরণে খরচ আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু বিক্রির সময় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, চামড়া কিনে সংরক্ষণ করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। কিন্তু বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত না হলে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।
আরেক ব্যবসায়ী জানান, আগে কোরবানির মৌসুমে চামড়া ব্যবসায় লাভের সুযোগ থাকলেও এখন লোকসানের ভয়েই অনেকে চামড়া কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ব্যবসায়ীরা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের কার্যকর তদারকি ও মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

