ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চললেও প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনের সময় যে বর্জ্য চোখে পড়েছিল, তা কোরবানির পশুর বর্জ্য নয় বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সেসব ছিল মূলত বাসাবাড়ি থেকে ফেলা গৃহস্থালি বর্জ্য।
আজ শনিবার (৩০ মে) কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় চার ঘণ্টার এই পরিদর্শনে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাতিরপুল, ফার্মগেটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান। কিছু স্থানে বর্জ্য জমে থাকতে দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ডিএনসিসির জোন-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঈদের সময় বর্জ্য অপসারণে তাদের ৭৫২টি যানবাহন কাজ করেছে। ডিএনসিসির বিস্তৃত এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকটি যানবাহন সাময়িকভাবে বিকল হয়ে পড়েছিল। পরে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে সেগুলো পুনরায় সচল করা হয়।
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সড়কগুলো দিয়ে গিয়েছিলেন সেখানে কিছু বর্জ্য দেখা গিয়েছিল। তবে সেগুলো কোরবানির পশুর বর্জ্য ছিল না, বরং বাসাবাড়ির সাধারণ গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। এ কারণেই তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঈদের প্রথম তিন দিনে মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন বর্জ্য ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ঈদের প্রথম দিনে এক হাজার ৮৮২টি ট্রিপের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৪৮ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। দ্বিতীয় দিনে এক হাজার ৫৮৩টি ট্রিপে অপসারণ করা হয় ৬ হাজার ৭১৪ দশমিক শূন্য ৩ টন বর্জ্য। আর তৃতীয় দিনে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপের মাধ্যমে সরানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৩ টন বর্জ্য।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি কিছু ছবি দিয়ে মেট্রোরেলের গ্রিল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা লিফট অচল হয়ে যাওয়ার মতো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব তথ্যের কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক আরও জানান, রাজধানী পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল থেকে মশকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।

