পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা থেকে ৫১ হাজার টনের বেশি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে দুই সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন ২৮ মে থেকে ৩০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৬ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অপসারণ করেছে ৩২ হাজার ৬৬২ টন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন ১৮ হাজার ৩৪৪ টন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, ঈদের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৪ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়। পরদিন আরও ৮ হাজার ৯৭৭ টন এবং তৃতীয় দিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৭১ টন বর্জ্য সেখানে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনে দক্ষিণ সিটির আওতায় ৩২ হাজার ৬৬২ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশন ঈদের দিন ১ হাজার ৮৮২টি ট্রিপের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৬ দশমিক ৪৮ টন বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করে। ২৯ মে ১ হাজার ৫৮৩টি ট্রিপে ৬ হাজার ৭১৪ দশমিক ৩ টন এবং ৩০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপে ৩ হাজার ৫৫৩ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। তিন দিনে উত্তর সিটির মোট অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪৪ টন।
শনিবার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নেওয়া ৭২ ঘণ্টার কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। এখনও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানি হচ্ছে।
এসব স্থান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে রাতের মধ্যেই সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে নেওয়া হবে এবং পরে ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হবে।
তিনি জানান, উত্তর সিটির আওতাধীন চারটি পশুর হাট ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং, সানারপাড় উত্তরখান, ঢাকা পলিটেকনিক এলাকা এবং ৩০০ ফিট সড়কের যমুনা মাঠ। বাকি ছয়টি হাট পরিষ্কারের কাজও চলমান রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেট্রোরেল ঘিরে ছড়িয়ে পড়া কিছু তথ্য নিয়েও কথা বলেন প্রশাসক। তিনি দাবি করেন, মেট্রোরেলের পাশের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল হওয়ার বিষয়ে যে ছবি ও তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দুই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সিটির ৭৫২টি যানবাহন সচল ছিল। কিছু যানবাহন সাময়িকভাবে বিকল হলেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের একটি সড়কে কিছু বর্জ্য দেখা গিয়েছিল।
তবে সেটি কোরবানির বর্জ্য নয়, গৃহস্থালি বর্জ্য ছিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

