নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসেমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি কথিত অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার এ সিদ্ধান্ত নেয় জেলা পুলিশ প্রশাসন।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, ভাইরাল হওয়া অডিওতে পুলিশের চাকরিকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, মো. আবুল হাসেমকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে আর্থিক লেনদেন, থানার সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং ওসির অনুমতি ছাড়া কোনো কার্যক্রম না চালানোর বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্য শোনা যায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসার মতো এবং সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে চলতে হবে। পাশাপাশি কারও প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিওতে আরও দাবি করা হয়, বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি ও খারিজের মাধ্যমে অর্থের সংস্থান করা হয় এবং সেই অর্থ দিয়েই নানা খরচ পরিচালিত হয়। এছাড়া থানার ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও গোপনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সম্পর্কেও বক্তব্য রয়েছে বলে শোনা যায়।
তবে এসব অভিযোগ ও ভাইরাল অডিওর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন ওসি মো. আবুল হাসেম। তার দাবি, তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। কারা বা কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে অডিওটি তৈরি করেছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। তার ভাষ্য, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে।
কলমাকান্দা থানাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এটি প্রথম বিতর্ক নয়। গত ৫ মে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা প্রসাধনী পণ্য ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঘুষের দর-কষাকষি সংক্রান্ত একটি কথিত কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন তৎকালীন ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছিল।
সেই ঘটনার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন করে আরেকটি অডিওকে কেন্দ্র করে কলমাকান্দা থানাকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

