দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নোটিশ জালিয়াতির মতো অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। আদালতে মামলার নোটিশ দাখিলের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসার পর পাঁচটি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা আগামী ১৪ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে জারি করা এক বিশেষ অফিস আদেশে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মামলার নোটিশ গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণে বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ক্লার্ক ও অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ পর্যালোচনার সময় একটি গুরুতর অসঙ্গতিও ধরা পড়ে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর আদালতে শুনানির জন্য উপস্থাপিত কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনে থাকা টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে উল্লেখিত টেন্ডার নম্বরের মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর একই আদালতে তালিকাভুক্ত আরও বেশ কয়েকটি মামলার নথিপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের চিহ্ন শনাক্ত হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো বিশেষ সুবিধা অর্জন বা অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কার্যতালিকার ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ নম্বর আইটেম বাতিল করে দেন।
তদন্তে আরও দেখা যায়, বিভিন্ন মামলার মূল আবেদনে যিনি শনাক্তকারী আইনজীবী হিসেবে উল্লেখ আছেন, নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীর নাম অনেক ক্ষেত্রে তার সঙ্গে মিলছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রকৃত আইনজীবীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, কয়েকজনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো আইনজীবী সমাজ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অযথা সমালোচনা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে ৫ বাধ্যতামূলক নির্দেশনা: অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস পাঁচটি সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রথমত, মূল পিটিশনে যিনি শনাক্তকারী আইনজীবী থাকবেন, নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীও তাকেই হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কোনো মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে।
তৃতীয়ত, নোটিশে টেন্ডার নম্বর হাতে লেখা যাবে না। তা অবশ্যই টাইপ করে উল্লেখ করতে হবে।
চতুর্থত, নোটিশ জমা দেওয়ার সময় এফিডেভিট-পরবর্তী মূল আবেদনপত্রের ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠার অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।
পঞ্চমত, কোনো মামলা এক আদালত থেকে অন্য আদালতে নতুনভাবে তালিকাভুক্ত হলে নতুন নোটিশের সঙ্গে পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা নোটিশের অনুলিপিও বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা, বিচারিক স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের পরিবেশ রক্ষায় এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা ব্যত্যয় গ্রহণ করা হবে না।

