স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির ধরন অনুযায়ী পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সব অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাই একই ধরনের গাছ সব এলাকায় না লাগিয়ে পরিবেশ অনুযায়ী উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করা জরুরি।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম–সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। আগে নির্দিষ্ট সময়ে বৃষ্টি হলেও এখন সেই স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে। বনাঞ্চল ধ্বংস ও গাছপালা কমে যাওয়াকে তিনি এ পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে এবং গাছের বেঁচে থাকার হারও বাড়বে।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। ১৪ জুন কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পিত এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীলতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি পাবে।
এ ছাড়া সভায় স্থানীয় প্রজাতির গাছ নির্বাচন, মাটির ধরন অনুযায়ী পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনায় বৃক্ষরোপণ করা হলে পরিবেশগত সুফল অনেক গুণ বাড়বে।
সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণকে আরও বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

