রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হয়। ধলেশ্বরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা চামড়া শিল্পনগরী স্থাপনের লক্ষ্য ছিল বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত রাখা। কিন্তু প্রায় এক দশক পরও দুই নদীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি–এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বুড়িগঙ্গা এখন কার্যত শেষের পথে এবং ধলেশ্বরীও একই অবস্থার দিকে এগোচ্ছে।
আজ শনিবার পিপিআরসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ওই ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য দেন মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক–এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল।
চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান, ফুটওয়্যার ও লেদার গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নাসির খান এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।
ওয়েবিনারে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি এখন একটি সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই সময়ে নতুন প্রবৃদ্ধির চালক ছাড়া অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাঁর মতে, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর এখনো অসম্পূর্ণ। এ অবস্থায় শিল্পনগরীর পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ দ্রুত নেওয়া দরকার।
হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, হাজারীবাগে থাকা ট্যানারি মালিকদের জমির সঠিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, চামড়া শিল্পনগরীকে পূর্বে বিসিকের অধীনে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এখন এটি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, এ প্রক্রিয়া আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করা উচিত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বন্ধ কলকারখানা ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্–অর্থায়ন স্কিম রয়েছে। এই তহবিলের আওতায় চামড়া খাতও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে খাতটিতে নতুন গতি আসতে পারে।

