শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর ফলে আলোচিত এ মামলার আপিল প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক পর্যালোচনার ধাপে প্রবেশ করল।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা আপিল প্রক্রিয়ার মধ্যে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ও স্বীকার করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য।
আসামি সোহেল রানা নিজেকে মাদকাসক্ত হিসেবে উল্লেখ করে আদালতের প্রতি অনুতাপ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। তার এমন বক্তব্য মামলার বিচারিক পর্যালোচনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন বিশ্লেষকদের মতে, আপিল পর্যায়ে এ ধরনের স্বীকারোক্তি ও অনুশোচনা দণ্ড পুনর্বিবেচনায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার আপিলে নিজের অবস্থান থেকে ভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ফলে একই মামলার দুই আসামির বক্তব্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা গেছে।
এর আগে গত সাত জুন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে উল্লেখ করেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন।
হাইকোর্টে আপিল গ্রহণের মাধ্যমে এখন মামলাটি উচ্চ আদালতে নতুন করে বিচারিক মূল্যায়নের পথে এগোচ্ছে। এই পর্যায়ে রায় বহাল থাকবে কি না, বা কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—তা নির্ধারণ করবে আপিল শুনানির পরবর্তী ধাপগুলো।

