নোয়াখালীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চরম অব্যবস্থাপনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। পরে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই নোয়াখালী সফরে গিয়ে হাসপাতালে যান মন্ত্রী। তিনি পুরুষ, নারী, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডসহ জরুরি বিভাগ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নোংরা পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট এবং সেবার দুর্বল অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত ছিলেন না। এতে আরও ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের পর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি ও হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কাউকে পদে রাখা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি উন্নয়নে নোয়াখালীর সিভিল সার্জনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত পিছিয়ে পড়েছে, যা দ্রুত ঠিক করা সহজ নয়। তবে ধাপে ধাপে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

