প্রাণিসম্পদ খাতের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগ ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ সমাপ্তির পথে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চলা এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৪৬৫ জন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং ৯৩০ জন লাইভস্টক ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট।
আগামী ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পভিত্তিক চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মসংস্থানও একই দিনে শেষ হয়ে যাবে। হঠাৎ চাকরি হারানোর শঙ্কায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাভারে জড়ো হন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ ডেইরি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ভবনের সামনে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। চাকরি স্থায়ীকরণ বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে তারা মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, খামারিদের প্রশিক্ষণ, পশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তাদের কর্মজীবন হঠাৎ থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে শুধু তারা নন, তাদের পরিবারও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে চুক্তিরও সমাপ্তি ঘটে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব পদ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
তবে সংশ্লিষ্টদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অভিজ্ঞ ও দক্ষ এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবল অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রকল্প শেষে তাদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অনেক কর্মী মেয়াদ শেষে চাকরিহীন হয়ে পড়েন।
প্রাণিসম্পদ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ এই জনবলকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলা রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ দীর্ঘ সময়ের কাজের মাধ্যমে তারা খামারি, পশুস্বাস্থ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নতুন প্রকল্প বা সরকারি কার্যক্রমে তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলে খাতটি আরও উপকৃত হতে পারে।
এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে হাতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। ফলে চাকরি টিকিয়ে রাখা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় রয়েছেন শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের আশা, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবদানের মূল্যায়ন করে সরকার কোনো না কোনো সমাধানের পথ বের করবে।

