বাংলাদেশের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ, সাবেক ত্রাণ ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হারুন অর রশিদ জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে গেছেন। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের প্রশাসন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখেন।
রাজনীতিতে তার পথচলা ছিল কয়েক দশকের। দলীয় রাজনীতিতে তিনি শুধু একজন সাংগঠনিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নেতৃত্বেও দীর্ঘ সময় সক্রিয় ছিলেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে জনসেবা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। নির্বাচনী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়দের কাছে এখনো স্মরণীয় হয়ে আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হারুন অর রশিদ ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় নেতৃত্ব—দুই ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পেরেছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী মহলের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। তারা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
হারুন অর রশিদের মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায় নয়, বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি সমর্থক ও সহকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

