জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলটির নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি আগে বিভিন্নভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় লেখক আব্দুল্লাহ হিল বাকী।
শনিবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, এনসিপির নেতৃত্বে থাকা ছয়জন ব্যক্তি অতীতে কখনো সাংগঠনিকভাবে, আবার কেউ কোচিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তবে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান, মতাদর্শ ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসতেই পারে। ফলে অতীতের সংশ্লিষ্টতাকে কেন্দ্র করে অযথা বিতর্ক বা অতিরঞ্জনের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আব্দুল্লাহ হিল বাকীর ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপিকে ঘিরে প্রায়ই আলোচনা তৈরি হয়—দলের কোন নেতা আগে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কে ছিলেন না। এ ধরনের বিতর্ককে তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, যারা অতীতের কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক ধারা গ্রহণ করেছেন, তাদের সেই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এনসিপি নিজেকে একটি মধ্যপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক দর্শনও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গড়ে তোলা হয়েছে বলে তার মন্তব্য।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান বা আদর্শিক বিবর্তন সম্পর্কে আগাম নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। সময়, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতে যেকোনো দলের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
আব্দুল্লাহ হিল বাকীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার উত্থাপিত দাবির বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

