রাজধানীর কাঁটাবনের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করার পর ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়। তবে এই দুর্ঘটনা আবারও বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে কাঁটাবনের ১৪ তলাবিশিষ্ট আল বারাকা টাওয়ারের ১২ ও ১৩ তলার দুটি ফ্ল্যাটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ৩টা ৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার পর ভবনের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের একজন মো. জনি (২৫) এবং অন্যজন মো. আবদুস সালাম (১৯)। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জনিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং আবদুস সালামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাফি আল ফারুক জানান, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনের ভেতরে আর কোনো ব্যক্তি আটকে থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। নতুন করে হতাহত হওয়ারও কোনো খবর নেই।
তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা না গেলেও ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগুনের উৎস, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে বহুতল ভবনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত নয়। নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া, জরুরি নির্গমনপথ সচল রাখা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীতে একাধিক বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো নানা ঘাটতি রয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই কাঁটাবনের এই মর্মান্তিক ঘটনাও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

