গ্রামীণ দরিদ্র, নিম্নআয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় আবর্তক ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির জন্য ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির এ অর্থ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হবে।
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম-১ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে পরিচালক (কার্যক্রম) মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান স্বাক্ষর করেন।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে আবর্তক ক্ষুদ্রঋণ খাতে রাখা হয়েছে ১৪ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরাদ্দের অর্থ সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল স্থানীয় কার্যালয়ে আরএসএস কার্যক্রমের ঘূর্ণায়মান তহবিলে জমা করা হয়েছে। সেখান থেকে নির্ধারিত বিভাজন তালিকা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা হবে।
এ লক্ষ্যে সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাদেরও দ্রুত অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়গুলোর আওতাধীন উপজেলা কার্যালয়ের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকারপত্র অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে পুরো বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কর্মসূচির আওতায় স্বল্প সুদে আবর্তক ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং টেকসই আয়ের পথ তৈরি করতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন ভূমিহীন পরিবার, প্রান্তিক কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ। সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণের সমন্বিত সুবিধা তাদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

