নারী শিক্ষার বিস্তার এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে মেয়েদের জন্য অনার্স (ডিগ্রি) পর্যন্ত শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা সম্প্রসারণে অতীতে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেটিকে আরও সম্প্রসারণ করে অনার্স পর্যন্ত নিয়ে যেতে চায়। এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার পাশাপাশি ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সংসদের কার্যক্রম সরাসরি দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন করবে।
অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ধাপে ধাপে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ সুবিধার আওতায় আনার জন্য কাজ করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

