সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের দিক থেকে ২০২৫ সালে বিশ্বের নবম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক, কারণ ২০০২ সালে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে পরিবেশ সুরক্ষায় অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ।
বর্তমানে দেশে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য নদীপথে ভেসে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ২৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বিভিন্ন নদী হয়ে সমুদ্রে গিয়ে জমা হচ্ছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা অববাহিকা, কর্ণফুলী এবং রূপসা নদী বঙ্গোপসাগরে প্লাস্টিক বর্জ্য পৌঁছানোর প্রধান উৎস। এর মধ্যে শুধু পদ্মা নদী দিয়েই বছরে প্রায় ৭ হাজার টন প্লাস্টিক সমুদ্রে যায়। কর্ণফুলী নদী দিয়ে যায় প্রায় ৩ হাজার টন এবং রূপসা নদী দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য।
বিশ্বজুড়ে সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক অপসারণে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে এবং এ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তবে গবেষকদের মতে, শুধু সমুদ্র পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।
তাদের মতে, যেসব জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে এসব নদী প্রবাহিত হয়েছে, সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য যেন নদীতে না ফেলা হয়, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা এবং কঠোর নজরদারির ওপর জোর দিতে হবে। উৎসস্থলেই প্লাস্টিকের প্রবাহ বন্ধ করা গেলে সমুদ্র দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

