দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে দেশের ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মাদারীপুর, যশোর এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঝড়ের পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল জলিল মিয়া স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনশ্চ: ১ নম্বর) সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সারা দেশের জন্য দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
শুধু সাধারণ বৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ নয়, পূর্বাভাস অনুযায়ী রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে স্থানীয়ভাবে দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, চলমান মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবের কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেখানে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং স্বল্পমেয়াদি স্থানীয় বন্যার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কৃষিজমি, সড়ক যোগাযোগ এবং নৌযান চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে নদীপথের যাত্রী, জেলে, কৃষক এবং খোলা জায়গায় কর্মরত মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা এবং অপ্রয়োজনে নদী বা খোলা মাঠে না যাওয়াই নিরাপদ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

