২০১৩ সালের মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘জেনোসাইড’ বা গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তার দাবি, ওই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা জানান।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামকে দমন করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর এ বিষয়ে মামলা হলেও কার্যকর কোনো তদন্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। পরে বিষয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয় এবং ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর শাপলা চত্বরের ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনায় শিশুসহ অনেক আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতাকর্মী নিহত হন। তিনি এই ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বর্বর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে মোট ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনায় ৩২ জন নিহতের বিষয়টি এবং দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন নিহতের ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটরের দাবি, এই দুই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণেই মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

