বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নিরাপদ সড়কের দাবিতে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা ধানকাটার শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজের সন্ধানে অপেক্ষা করছিলেন। বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটিতে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একই স্থানে বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
অবরোধের কারণে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্পিড ব্রেকার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। স্থানীয়দের দাবিও, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে না হয়, সে জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

