দেশজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে মোট ৬৯ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব থেকে শুরু করে সহকারী সচিব পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।
আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট একটি জেলা বা উপজেলার হাসপাতালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানকার জনবল পরিস্থিতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল প্রধানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন তারা। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক শাখার কর্মকর্তারাও পরিদর্শনের সময় তাদের সহযোগিতা করবেন।
তদারকির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিজিটাল হাজিরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং সে সংক্রান্ত তথ্য নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া। এছাড়া জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান কার্যক্রম, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতামূলক নানা উদ্যোগের অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে তাদের।
দায়িত্বের তালিকায় আরও রয়েছে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হার কমানো, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের মতো জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোকে সেবার মান বাড়াতে নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করাও তাদের কাজের অংশ।
আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনের পাশাপাশি সেখান থেকে পাওয়া পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট শাখায় প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে। যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য মনে হবে, সেগুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কর্মকর্তাকে চলতি মাসে অন্তত একটি এবং এরপর প্রতি মাসে অন্তত একটি পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে বলেও আদেশে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত বিশ্লেষকদের মতে, এককালীন অভিযানের বদলে এই ধরনের কাঠামোবদ্ধ ও ধারাবাহিক তদারকি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সরকারি হাসপাতালের জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এর প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কতটা নিয়মিতভাবে পরিদর্শন চালিয়ে যান এবং তাদের সুপারিশ বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর। শুধু প্রতিবেদন জমা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, সুপারিশের ভিত্তিতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

