একসময় ভালো চাকরি বলতে অনেকের কাছেই বোঝাত বেশি বেতন, স্থায়ী পদ এবং দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ। কর্মজীবনের সাফল্যও অনেকটা মাপা হতো মাসিক আয় ও পদমর্যাদা দিয়ে। কিন্তু তরুণদের একটি বড় অংশের কাছে এই হিসাব এখন বদলে যাচ্ছে।
চাকরি নির্বাচনের সময় তাঁরা শুধু কত টাকা বেতন পাবেন, সেই প্রশ্ন করছেন না। বরং কাজের সময় নিজের মতো করে সাজানো যাবে কি না, ব্যক্তিগত জীবনের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে কি না, নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ আছে কি না এবং বাসা বা অন্য কোনো স্থান থেকে কাজ করা সম্ভব কি না—এসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সাম্প্রতিক এক ডেলয়েট জরিপে দেখা গেছে, জেড প্রজন্ম ও সহস্রাব্দ প্রজন্মের কর্মীরা শুধু দ্রুত পদোন্নতি বা বেশি আয়ের দিকে ছুটছেন না। কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং ব্যক্তিগত সুস্থতাকেও তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, মুক্তপেশা, সৃজনশীল কাজ এবং দূরবর্তী কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে।
শুধু বেতন দিয়ে আর চাকরির আকর্ষণ মাপা যাচ্ছে না
একজন তরুণ কর্মীর সামনে যদি দুটি চাকরির সুযোগ থাকে, তাহলে আগে হয়তো বেশি বেতনের চাকরিটিই স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হতো।কিন্তু বর্তমান সময়ে সিদ্ধান্তটি এত সরল নয়।
একটি চাকরিতে বেতন কিছুটা বেশি হলেও যদি প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে থাকতে হয়, যাতায়াতে কয়েক ঘণ্টা চলে যায়, ব্যক্তিগত কাজের সুযোগ কম থাকে এবং নতুন কিছু শেখার পরিবেশ না থাকে, তাহলে সেই চাকরি অনেক তরুণের কাছে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম বেতনের কোনো কাজে যদি সময়ের স্বাধীনতা থাকে, দূর থেকে কাজ করা যায় এবং পাশাপাশি পড়াশোনা বা নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে, তাহলে সেটিই কারও কাছে বেশি মূল্যবান হতে পারে।অর্থাৎ তরুণ কর্মীদের কাছে চাকরির মূল্য নির্ধারণে মাসিক বেতন এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি আর একমাত্র মানদণ্ড নয়।
বাংলাদেশের মুক্তপেশাজীবীদের কাছে সময়ের স্বাধীনতা বড় আকর্ষণ
বাংলাদেশে এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পাওয়া যায় মুক্তপেশাভিত্তিক কাজে।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গবেষণায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মুক্তপেশাজীবীদের ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন, নিজের সুবিধামতো কাজের সময় নির্ধারণ করার সুযোগ মুক্তপেশায় আসার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।এই সংখ্যা দেখায়, তরুণদের কাছে কাজের ধরন এবং সময়ের নিয়ন্ত্রণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মুক্তপেশায় প্রচলিত কার্যালয়ভিত্তিক চাকরির মতো নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা সব ক্ষেত্রে থাকে না। কাজের ধরন ও গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেকে নিজের সময় নিজেই ঠিক করতে পারেন।
এই স্বাধীনতা বিশেষ করে শিক্ষার্থী, সদ্য স্নাতক এবং একই সঙ্গে একাধিক দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী তরুণদের জন্য আকর্ষণীয়।
কোন ধরনের কাজে তরুণদের আগ্রহ
বাংলাদেশে মুক্তপেশাভিত্তিক কর্মসংস্থানে চিত্রাঙ্কনভিত্তিক নকশা তৈরি, সফটওয়্যার ও ওয়েবভিত্তিক উন্নয়ন এবং ডিজিটাল বিপণন অন্যতম সাধারণ কাজ হিসেবে উঠে এসেছে।
এর পাশাপাশি বিষয়বস্তু লেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা, অনলাইনে পড়ানো, নকশা তৈরি এবং তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজও তরুণদের জন্য প্রচলিত পূর্ণকালীন চাকরির তুলনায় বেশি নমনীয়তার সুযোগ তৈরি করছে।
এসব কাজের বড় সুবিধা হলো, সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়ে বসে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে না।
কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে পারেন। কেউ অন্য একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। আবার কেউ দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজও বাংলাদেশে বসে করতে পারেন।ফলে কর্মসংস্থানের ভৌগোলিক সীমাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যেও খণ্ডকালীন কাজের আগ্রহ
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খণ্ডকালীন কাজের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।এর পেছনে শুধু অর্থ উপার্জনের বিষয় নেই।
অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান। কেউ নিজের দৈনন্দিন ব্যয়ের একটি অংশ বহন করতে চান, আবার কেউ ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকার জন্য আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চান।
পূর্ণকালীন প্রচলিত চাকরিতে সাধারণত দীর্ঘ সময় দেওয়ার প্রয়োজন হয়। একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও পড়াশোনার পাশাপাশি এমন চাকরি করা কঠিন হতে পারে।
কিন্তু কাজের সময় যদি নমনীয় হয়, তাহলে পড়াশোনা এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা—দুটিই একসঙ্গে চালিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
এই কারণেই তরুণদের কাছে নমনীয় কাজের মূল্য শুধু আর্থিক নয়; এটি তাঁদের সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
দক্ষতা তৈরিও বড় কারণ
তরুণ কর্মীদের সিদ্ধান্তে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ।বর্তমান চাকরির বাজারে একটি দক্ষতার ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব বাড়ছে।তাই অনেক তরুণ এমন কাজ বেছে নিতে চান, যেখানে কাজ করার পাশাপাশি নতুন কিছু শেখা যায়।
কেউ হয়তো নকশা তৈরির কাজ করতে গিয়ে গ্রাহক ব্যবস্থাপনা শিখছেন। কেউ বিষয়বস্তু লিখতে গিয়ে গবেষণা ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াচ্ছেন। কেউ তথ্যপ্রযুক্তির কাজ করতে গিয়ে নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করছেন।
এই ধরনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্য চাকরি বা পেশাতেও কাজে লাগতে পারে।
ফলে কম বেতনের একটি প্রাথমিক কাজও কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদে বেশি মূল্যবান হতে পারে, যদি সেখানে শেখার সুযোগ বেশি থাকে।
সরকারি উদ্যোগেও ডিজিটাল দক্ষতার ওপর জোর
তরুণদের নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে সরকারি পর্যায়েও প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর দেশের ৬৪ জেলায় নতুন করে তিন মাসব্যাপী মুক্তপেশা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে।এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিক্ষিত চাকরিপ্রত্যাশীদের বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, নমনীয় কাজের সুযোগ থাকলেই সবাই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন না। প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট দক্ষতা, কাজের মান বজায় রাখার সক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার যোগ্যতা।তাই কর্মসংস্থানের নতুন ধরন তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
দূরবর্তী কাজ খুলে দিয়েছে দেশের বাইরের বাজার
নমনীয় ও দূরবর্তী কাজের বড় একটি সুবিধা হলো, কর্মীর অবস্থান এবং কাজদাতার অবস্থান একই দেশে হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
বাংলাদেশে বসেই একজন তরুণ বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।এর ফলে কর্মসংস্থানের বাজার আর শুধু নিজ শহর বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।
বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, নকশা, লেখা, বিপণন এবং অনলাইনভিত্তিক সেবার ক্ষেত্রে এই সুযোগ বেশি।একজন দক্ষ তরুণের সামনে তাই স্থানীয় চাকরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রাহকের জন্য কাজ করার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
এটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে শুধু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন কমে আসতে পারে।
তবে নমনীয় কাজ মানেই নিশ্চিন্ত জীবন নয়
নমনীয় কর্মসংস্থানের সুবিধা থাকলেও এর সঙ্গে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।এর মধ্যে অন্যতম হলো আয়ের অনিশ্চয়তা।
প্রচলিত চাকরিতে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট বেতন পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক মুক্তপেশাভিত্তিক কাজে মাসভেদে কাজের পরিমাণ এবং আয় পরিবর্তিত হতে পারে।কোনো মাসে বেশি কাজ পাওয়া গেলেও পরের মাসে তা কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাও তীব্র। একই কাজের জন্য বাংলাদেশের একজন তরুণকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে।
শুধু প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করাই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নিজের দক্ষতা উন্নত করা, কাজের মান ধরে রাখা এবং নতুন ধরনের কাজের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়।তাই নমনীয়তা যেমন স্বাধীনতা দেয়, তেমনি ব্যক্তিগত দায়িত্বও বাড়ায়।
কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য কেন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে
তরুণদের চাকরি নির্বাচনের পরিবর্তিত মানসিকতার অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হচ্ছে কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য।
একজন কর্মী যদি ভালো বেতন পান কিন্তু পরিবার, বন্ধু, পড়াশোনা বা নিজের আগ্রহের জন্য কোনো সময় না পান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সেই চাকরির প্রতি তাঁর আগ্রহ কমে যেতে পারে।
তরুণদের একটি অংশ তাই এমন কর্মজীবন চান, যেখানে চাকরির পাশাপাশি নিজের জীবনও থাকবে।এখানে স্বাধীনতার অর্থ কাজ কম করা নয়।বরং কখন এবং কোথা থেকে কাজ করবেন, সেই বিষয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকা।
এই নিয়ন্ত্রণ একজন কর্মীকে নিজের জীবন, পড়াশোনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পেশাগত দায়িত্ব আরও ভালোভাবে সমন্বয় করার সুযোগ দিতে পারে।
বেশি বেতনের চাকরি কেন সবসময় সেরা পছন্দ নয়
ধরা যাক, একজন তরুণের সামনে দুটি চাকরি রয়েছে।
প্রথম চাকরিতে বেতন বেশি, কিন্তু কাজের সময় কঠোর, দূর থেকে কাজের সুযোগ নেই এবং দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত।
দ্বিতীয় চাকরিতে প্রাথমিক বেতন কিছুটা কম, কিন্তু সময়ের স্বাধীনতা আছে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্যও সময় পাওয়া যায়।আগের প্রজন্মের অনেক কর্মীর কাছে প্রথম চাকরিটি স্বাভাবিকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারত।
কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকেই দ্বিতীয় বিকল্পটি বেছে নিতে পারেন।এর কারণ তাঁরা শুধু বর্তমান মাসের আয় দেখছেন না; তাঁরা ভবিষ্যতের দক্ষতা, সময়ের মূল্য এবং জীবনযাত্রার মানও হিসাব করছেন।
এই দৃষ্টিভঙ্গি চাকরি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের জন্যও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
তরুণদের এই পরিবর্তিত অগ্রাধিকার শুধু কর্মীদের বিষয় নয়। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এর বড় তাৎপর্য রয়েছে।
একটি প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে শুধু বেশি বেতন দিলেই সবচেয়ে দক্ষ তরুণদের ধরে রাখা সম্ভব, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ধারণা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
কর্মীদের সময় ব্যবস্থাপনায় কিছু স্বাধীনতা, কাজ শেখার সুযোগ এবং ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে যেসব কাজ সরাসরি কার্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে কর্মীদের কিছুটা নমনীয়তা দেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
কারণ একজন কর্মী শুধু বেশি বেতনের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে চাইবেন কি না—সেটি কর্মপরিবেশের ওপরও নির্ভর করবে।
তরুণদের কাছে ‘ভালো চাকরি’র সংজ্ঞাই বদলাচ্ছে
এই পুরো পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত এখানেই।
তরুণদের কাছে ভালো চাকরির সংজ্ঞা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।
ভালো চাকরি মানে শুধু মাস শেষে বড় অঙ্কের বেতন নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে—
নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ,
কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য,
নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ,
পড়াশোনার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা,
দূর থেকে কাজ করার সুযোগ
এবং ভবিষ্যতে অন্য পেশায় ব্যবহার করা যায় এমন অভিজ্ঞতা।
এই কারণেই তুলনামূলক কম প্রাথমিক বেতন সবসময় একটি চাকরিকে কম আকর্ষণীয় করে তুলছে না।
বেতন নয়, পুরো কর্মজীবনের হিসাব
বেতন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আয় ছাড়া কর্মজীবনের স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।কিন্তু তরুণ কর্মীদের একটি অংশ এখন বেতনের পাশাপাশি আরও একটি সম্পদের মূল্য বুঝতে শুরু করেছেন—সময়।
কাজের বাইরে নিজের জীবন পরিচালনার সময়, নতুন কিছু শেখার সময়, পড়াশোনার সময় এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সময়।
বাংলাদেশে মুক্তপেশাজীবীদের ৮৮ দশমিক ১ শতাংশের কাছে নমনীয় কর্মঘণ্টা প্রধান আকর্ষণ হওয়ার তথ্যটি তাই শুধু মুক্তপেশার জনপ্রিয়তার গল্প নয়। এটি তরুণদের কর্মজীবন নিয়ে পরিবর্তিত ভাবনারও একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত।
আগামী দিনে চাকরির বাজারে ভালো কর্মীদের আকৃষ্ট করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু প্রশ্ন করতে হবে না—‘আমরা কত বেতন দিচ্ছি?’
আরও একটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—
‘এই চাকরি একজন তরুণকে কী ধরনের জীবন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দিচ্ছে?’
সেখানেই হয়তো আগামী দিনের কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লুকিয়ে আছে।

