পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবিক আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়েই ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রকৃত মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বাণীতে তিনি বলেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবী (সা.)-এর আগমন এক অসাধারণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তার আবির্ভাবের মধ্য দিয়েই মানুষ সত্য ও আলোর পথের সন্ধান পায়। একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির শিক্ষা দিয়ে গেছেন, যা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে আছে।
এ উপলক্ষে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান তথা বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন তিনি, যিনি মানবজাতির কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী হিসেবে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাঠিয়েছেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা মহানবী (সা.)-এর জীবনকে উত্তম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার জীবনযাপন ছিল কুরআনের শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন—সততা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়বিচার, ক্ষমা, সহনশীলতা ও পরোপকারিতার অনন্য নিদর্শন। এই আদর্শে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষাও পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতি, বর্ণ, গোত্র বা ভাষার ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন মহানবী (সা.)। এতিম, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন তিনি, পাশাপাশি নারী, শিশু ও সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায়ও দিয়েছেন বিশেষ গুরুত্ব। তার এই শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয় বরং ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে মজবুত করে বলে মত দেন তিনি।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং বলেন, তার আদর্শ অনুসরণেই একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণদেরই হাতে। মাদক, সন্ত্রাস ও উগ্রতার পথ থেকে তাদের দূরে রেখে জ্ঞান, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ হতে পারে বড় প্রেরণা। এই আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা কেবল ধর্মীয় জীবনের জন্য নয়, বরং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে এই আদর্শ ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বাড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষাংশে তিনি প্রার্থনা করেন, যেন সবাই মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক পান এবং দেশে তথা বিশ্বজুড়ে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। পবিত্র এই দিনে দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান তিনি।

