বাংলাদেশে মুসলিম এইড-ইউকের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সংস্থাটির নিবন্ধন পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তবে এর জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নতুন করে সাজানোসহ আগের সব শর্ত মেনে চলতে হবে।
গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন পরিচালকের স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠিতে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠি অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের আওতায় গত ১৩ আগস্ট মুসলিম এইড-ইউকের বাংলাদেশ শাখার নিবন্ধন বাতিল করেছিল এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংস্থাটির দেশীয় প্রধান আপিল করেন।
আপিল শুনানি শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিবন্ধন বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে নিবন্ধন পুনর্বহালের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যুরোকে নির্দেশ দেয়। তবে এই পুনর্বহাল নিঃশর্ত নয়—সংস্থাটিকে অবশ্যই তাদের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে, পাশাপাশি নিবন্ধনের সময় দেওয়া অন্যান্য সব শর্তও বহাল থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ ব্যাংক, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফলে নিবন্ধন বাতিলের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সংস্থাটির কার্যক্রম ফের বৈধতা পাওয়ার পথ তৈরি হলো।
উল্লেখ্য, এর আগেও একবার বাংলাদেশে মুসলিম এইড-ইউকের কার্যক্রমে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে এই সংস্থাসহ আরও দুটি এনজিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
সংস্থাটির প্রেক্ষাপট বলছে, ১৯৮৫ সালে আফ্রিকার দুর্ভিক্ষে সহায়তার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ব্রিটিশ মুসলিম সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম এইড। একই বছর বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলে স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের আগেই সংস্থাটি জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠায়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং কৃষি ও জীবিকা-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখে মুসলিম এইড।

