দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আবারও দেশের জ্বালানি আলোচনার কেন্দ্রে। দুই দশক আগে যে কয়লাখনি প্রকল্পকে ঘিরে রক্ত ঝরেছিল, প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনজন এবং তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকারকে প্রকল্প বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছিল, সেই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টিই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
২০০৬ সালের ফুলবাড়ী আন্দোলনের ২০ বছর পূর্তির দিনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশবাদী সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা বলছেন, মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও পানির উৎসের নিচ থেকে কয়লা উত্তোলনের কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না। তাদের আশঙ্কা, পুরোনো প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন হলে ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।
এর মধ্যে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দিনাজপুরের কয়লা নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবনার ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ১৬ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফুলবাড়ী থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সম্প্রতি জানিয়েছেন, স্থানীয় কয়লা উত্তোলনের নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে আগামী ১০ বছরের একটি জ্বালানি মহাপরিকল্পনা শিগগিরই সংসদে উপস্থাপন করা হবে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আবারও কি স্থানীয় কয়লাকে বড় ধরনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে?
ফুলবাড়ীর আন্দোলনের ইতিহাস এই বিতর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে। ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট যুক্তরাজ্যভিত্তিক এশিয়া এনার্জির উন্মুক্ত কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আমিন, সালেকিন ও তারিকুল নামে তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। ওই সময় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল।
তীব্র আন্দোলনের পর ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তি করতে বাধ্য হয়। চুক্তিতে প্রকল্প বাতিল, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন নিষিদ্ধ করা এবং এশিয়া এনার্জিকে অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
দুই দশক পর সেই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েই আবারও প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া নতুন করে কয়লা উত্তোলনের কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
২০০৬ সালের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদও নতুন উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য, সরকার হয়তো মনে করছে মানুষ নীরব হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ফুলবাড়ীর মানুষ ও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছেন।
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে একটি প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে, যা দিনাজপুরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর লক্ষ্য শুধু ২০০৬ সালের ঘটনার স্মরণ নয়, একই সঙ্গে নতুন করে উন্মুক্ত কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান জানানো এবং ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা।
সরকারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ হলো বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কয়লাস্তরগুলোর অবস্থান, ঘনবসতি, কৃষিজমির ওপর নির্ভরতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এবং বর্ষাকালের অতিবৃষ্টির কারণে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিদিন তুলে ফেলতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, খনির গর্ত শুকনো রাখতে প্রতিদিন আনুমানিক ৮০ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের প্রয়োজন হতে পারে। এত বিপুল পরিমাণ পানি তুলে ফেললে আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যেতে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে কৃষিতে। গ্রামের অসংখ্য নলকূপ ও কূপ পানিশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেচের পানির সংকট তৈরি হলে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চলের অর্থনীতিই বদলে যেতে পারে।
বরাপুকুরিয়ায় দেশের একমাত্র সক্রিয় ভূগর্ভস্থ কয়লাখনির অভিজ্ঞতাও এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই খনির আশপাশের অন্তত ১৫টি গ্রামে ইতোমধ্যে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ফুলবাড়ীতে আরও বড় পরিসরে উন্মুক্ত খনন শুরু হলে পানির ওপর এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
মানুষের বসতি উচ্ছেদের প্রশ্নটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে সরাসরি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে স্থানচ্যুত হতে হতে পারে। পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ।
শুধু বসতবাড়িই নয়, প্রকল্পটির প্রভাব পড়তে পারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজমির ওপরও। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রায় ১২ হাজার হেক্টর উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার মৎস্যসম্পদভিত্তিক স্থাপনা এবং প্রায় ৫০ হাজার ফলদ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হতে পারে।
এখানেই ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলনকে ঘিরে অর্থনৈতিক প্রশ্নটিও সামনে আসে। কয়লা উত্তোলন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্থনৈতিক সুবিধা কতটা হবে, আর এর বিপরীতে জমি অধিগ্রহণ, মানুষের পুনর্বাসন, পরিবেশের ক্ষতি ও পানিসম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ব্যয় কত হবে—এই হিসাবটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমামের মতে, বাংলাদেশের জমির স্বল্পতা ও অতিবৃষ্টির কারণে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন বাস্তবসম্মত নয়। খনি থেকে তোলা বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলার জন্য খনির আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। আবার বর্ষাকালে খনির বিশাল গর্তে পানি জমে গিয়ে সেটি অস্থিতিশীল জলাধারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
অর্থাৎ খনি শুধু যেখানে খনন করা হবে সেই জায়গাকেই প্রভাবিত করবে না। আশপাশের জমি, পানি, কৃষি ও মানুষের বসবাসের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্বের বড় খনি প্রতিষ্ঠান বিএইচপি বিলিটনও একসময় ফুলবাড়ীর প্রকল্প থেকে সরে গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত মানদণ্ডের সঙ্গে গভীর স্তরের কয়লা উত্তোলন সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না—এমন আশঙ্কার কারণেই তারা প্রকল্পটি ছেড়ে দেয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে সরকারের সামনে জ্বালানি সংকটও একটি বাস্তব সমস্যা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অংশ বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। দেশের ছয়টি বড় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম, পরিবহণ ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়।
অন্যদিকে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ হয় গ্যাস দিয়ে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির মাধ্যমে আসে। দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হলেও পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় কয়লাকে ব্যবহার করে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর চিন্তা সরকারের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন হলো, সেই জ্বালানি নিরাপত্তার মূল্য যদি কৃষি, পানি, পরিবেশ ও মানুষের বসতভিটা ধ্বংসের মাধ্যমে দিতে হয়, তাহলে প্রকল্পটি আদৌ অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হবে কি না।
বাংলাদেশ পরিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক কর্মীদের সংগঠনের একজন নেতা হাসান মেহেদী মনে করেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। তার মতে, বরাপুকুরিয়ায় বর্তমানে প্রতি টন কয়লা উৎপাদনে প্রায় ১৭৬ মার্কিন ডলার খরচ হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম এর চেয়ে অনেক কম। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনন শুরু হলে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ এবং প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির বিপুল ব্যয় যুক্ত হয়ে খরচ আরও বাড়তে পারে।
এখানে আরেকটি বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ধীরে ধীরে কমানোর চাপ বাড়ছে। পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। ফলে এখন নতুন করে বড় ধরনের কয়লাখনি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আগামী কয়েক দশকের জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটি নিজেই বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। একদিকে কয়লা উত্তোলনের কারণে স্থানীয় পরিবেশের ওপর চাপ বাড়তে পারে, অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণও বাড়বে।
তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যাবে না। শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মসংস্থান কমে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও চাপ পড়ে। তাই সরকারকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতেই হবে।
প্রশ্ন হলো, সেই সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে ফুলবাড়ীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর এলাকায় উন্মুক্ত কয়লা খনন থাকবে কি না। যদি থাকে, তাহলে প্রকল্পের আগে শুধু কয়লার মজুত বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নয়, মানুষের পুনর্বাসন, পানির নিরাপত্তা, কৃষি, পরিবেশ, অর্থনৈতিক ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাজার—সবকিছুর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ফুলবাড়ীর ২০০৬ সালের ঘটনা দেখিয়েছে, জ্বালানি প্রকল্প কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন, জমি, জীবিকা ও অধিকারও জড়িত। সেই সময় তিনজন মানুষের প্রাণহানি এবং পরবর্তী ছয় দফা চুক্তি এখনো এই বিতর্কের কেন্দ্রীয় অংশ।
তাই দুই দশক পর ফুলবাড়ীর কয়লা আবার আলোচনায় আসার অর্থ শুধু একটি খনি প্রকল্প নিয়ে নতুন বিতর্ক নয়। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নীতি কোন পথে যাবে, সে প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।
দেশ কি স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন করে কয়লার দিকে ফিরবে, নাকি গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প উৎসের দিকে আরও জোর দেবে—সেই সিদ্ধান্ত আগামী দিনের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।
ফুলবাড়ীর মানুষ তাই আবারও রাস্তায় নেমেছেন। তাদের দাবি, ২০০৬ সালের চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমির নিচে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে।
দুই দশক আগের সেই আন্দোলনের ক্ষত এখনো পুরোপুরি শুকায়নি। নতুন করে উন্মুক্ত কয়লা খননের আলোচনা সেই পুরোনো ক্ষতকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—জ্বালানি সংকটের সমাধান খুঁজতে গিয়ে যেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, যার পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হয়।

