চাঁদপুর শহরে একটি স্বর্ণালংকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। আজ বুধবার তার এক নিকটাত্মীয়, যিনি স্থানীয় একটি সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক, বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিখোঁজ বাকিরা হলেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি এবং তাদের দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম।
ওই আত্মীয় জানান, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন কারণে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। সম্প্রতি এলাকার একজন ব্যক্তি তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জেনেছিলেন, এরপর থেকেই তিনি পরিবারসহ নিখোঁজ।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা ধার দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অনেকের বন্ধক রাখা স্বর্ণ সময়মতো ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নেওয়ায় তিনি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একাধিকবার দোকান বদলের পর সর্বশেষ শহরের একটি মার্কেটের নিচতলায় নিজের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে বন্ধক রাখা স্বর্ণের প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম অর্থ দেওয়া হতো গ্রাহকদের।
এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার পঞ্চাশ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন পিন্টু দাসের কাছে। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণ নিতে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলা হয়। এরপরই তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারসহ নিখোঁজ হয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আরও দুইজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, তারাও যথাক্রমে বারো আনা ও দশ আনা স্বর্ণ বন্ধক রেখেছিলেন পিন্টু দাসের কাছে। তাদের ভাষ্যমতে, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে দোকান ভাড়া নিয়ে ওই মার্কেটে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। জানা গেছে, পিন্টু দাসের আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে, আর কুমিল্লা অঞ্চলে তার কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছেন।
এদিকে গোটা পরিবারটি প্রকৃতপক্ষে নিখোঁজ, নাকি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে গেছে—এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা জল্পনা।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার একজন কর্মকর্তা বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারসহ আত্মগোপনে গেলে তাকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত থানায় কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা জানান, পিন্টু দাসসহ পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা সদ্য জানতে পেরেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

