বাজারে থাকা দশটি খাদ্যপণ্য মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মসলা এবং জনপ্রিয় ঘি ব্র্যান্ডের পণ্যও।
আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, নির্ধারিত জাতীয় মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া এই পণ্যগুলোর লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালায় বিএসটিআই। এতে বেশিরভাগ পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি ধরা পড়ে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রকৃত দুধের ফ্যাটের বদলে পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ঘি হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ ছাড়া পরিচিত একটি মসলা কোম্পানির একাধিক পণ্যেও বিভিন্ন মানদণ্ডে ঘাটতি পাওয়া গেছে।
পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ওই মসলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালাভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলা—এই ছয়টি পণ্য মান উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে নিম্নমানের প্রমাণিত ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে চারটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি ব্র্যান্ড, যার মধ্যে একটি পরিচিত বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের ঘি ছাড়াও আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঘি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের বাটার অয়েল অন্তর্ভুক্ত।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি দ্বিধা করবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, মান সনদ প্রদানের পাশাপাশি ভেজাল ও নকল পণ্য ঠেকাতে বিএসটিআই কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
পণ্য কেনার আগে ভোক্তাদের প্রতিষ্ঠানের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পণ্যের উপাদান যাচাই করে দেখার পরামর্শ দেন বিএসটিআই মহাপরিচালক। পাশাপাশি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল বা মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।

