সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন আইনি জটিলতায় আটকে থাকা বত্রিশ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়ায় অবশেষে গতি এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে এতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই তালিকা যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির পর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে পাঠানো হবে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
অধিদপ্তরের নীতি ও কার্যক্রম বিভাগের একজন পরিচালক জানান, দীর্ঘদিনের একটি মামলার জটিলতা কাটার পরই মাঠ পর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি প্রক্রিয়া শিগগিরই শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের এই শূন্যতার পেছনে মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্ট আইনি জটিলতা। এ সংক্রান্ত বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হওয়ায় দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তায় ছিল পদোন্নতির প্রক্রিয়া, ফলে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকলেও সেগুলো পূরণ করা যাচ্ছিল না।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করলে জটিলতার অবসান ঘটে এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ উন্মুক্ত হয়।
তবে রায় হলেও তাৎক্ষণিকভাবে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না—প্রথমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা প্রস্তুত করা হবে, তারপর সেই তালিকা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তি করার সুযোগ দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্যে গ্রেডেশন তালিকা অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ইউনিটে তা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা তৈরি শেষে একটি নোটিশ জারি করা হবে, যাতে অভিযোগ জানানোর জন্য ত্রিশ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে কোনো আপত্তি না এলে তালিকাটি অধিদপ্তরে পাঠানো হবে, এরপর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা যাবে সরকারি কর্ম কমিশনে। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই পদোন্নতি প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের আশি শতাংশ পূরণ হবে পদোন্নতির মাধ্যমে, আর বাকি বিশ শতাংশ পূরণ করা হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত বারো বছরের অভিজ্ঞতাসহ নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণের শর্ত রাখা হয়েছে। বর্তমানে শূন্য থাকা বত্রিশ হাজারের বেশি পদ পূরণে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদেরই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

