স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ধাপভিত্তিক ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
ইউপি নির্বাচন কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এই মাসের মধ্যেই অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বিষয়গুলো জানাতে পারব। কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।”
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় চালু করা কিছু নিয়ম স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যুক্ত করা হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
নির্বাচনের সময় নির্ধারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট ও প্রি-টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকদের ব্যবহার করা হয়।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, পরীক্ষা ও নির্বাচন যেন একই সময়ে না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার সময় এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখনই নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জানানো হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে।
নির্বাচনে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া নির্বাচন ঘিরে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায়ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

