রাহাদ সুমন, বরিশাল ব্যুরো
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বরিশালের ইন্দো-বাংলা কারখানা খুলে দেওয়া এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে থালা-বাসন হাতে নিয়ে ভুখা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত করেন শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ইন্দো-বাংলা কারখানার সামনে থেকে ভুখা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নথুল্লাবাদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষের অবৈধ নোটিশ প্রত্যাহার করে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা খুলে দেওয়া এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে আয়োজিত ভুখা মিছিলে শ্রমিকরা হাতে থালা-বাসন নিয়ে অংশ নেন।
ভুখা মিছিল শেষে নথুল্লাবাদে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক, ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল শেখ, রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের জেলা শাখার সংগঠক আইয়ুব আলী তালুকদার, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মজিদ হাওলাদার, মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের বরিশাল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোনিয়া আক্তার, গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেডের শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শাহাদাত, পদ্মা ব্লোয়িং লিমিটেডের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জসিম উদ্দিন গাজী এবং ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের কোষাধ্যক্ষ আসলাম হোসেন সজীব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের দাবিগুলো পেশ করায় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করার ভয় দেখানোর অসৎ উদ্দেশ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ইন্দো-বাংলা কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সব শ্রমিককে একত্রে এবং সাতজনকে আলাদাভাবে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, চলতি মাসের ২৫ তারিখ পার হলেও শ্রমিকরা এখনো আগস্ট মাসের বেতন পাননি। শ্রমিকরা একতাবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দাবিগুলো পেশ করেছেন। অথচ মালিকপক্ষ সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ রেখেছে। পরবর্তীতে একের পর এক শ্রমিককে ছাঁটাই করে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ নোটিশ প্রত্যাহার করে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা খুলে দেওয়াসহ বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে ভুখা মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

