২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের মূল খরচ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হজযাত্রীদের জন্য ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে খাবারের খরচ বাদ দিয়ে সরকারের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। ২০২৭ সালের প্যাকেজে খাবারের খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বাবদ যোগ হয়েছে ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা।
তিনি জানান, হজের মোট ব্যয় মূলত সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দুটি অংশে বিভক্ত। মোট খরচের প্রায় ৭৫ শতাংশ সৌদি আরবের অংশে ব্যয় হয়। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাঁবু, স্থানীয় যাতায়াত, মিনা, মক্কা ও মদিনায় থাকার ব্যবস্থা, কোরবানি, ভিসা এবং স্বাস্থ্য বীমার খরচ রয়েছে। বাকি প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যয় বাংলাদেশের অংশে পড়ে, যার বড় অংশ বিমান ভাড়ার জন্য ব্যয় হয়।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকার মিনা ও আরাফাতের জন্য আগের সর্বনিম্ন ‘ডি’ শ্রেণির সেবা বাতিল করায় হজের খরচ বেড়েছে আরও ৭০০ সৌদি রিয়াল। প্রতি রিয়াল ৩৩ টাকা ২০ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ২৪০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয়ের কারণে ব্যয় বেড়েছে আরও ৩ হাজার ৮২৫ টাকা।
খাবারের খরচ ও সৌদি আরবের বাড়তি ব্যয় যুক্ত করে গত বছরের প্যাকেজ কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হলে ২০২৭ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকা হতো বলে জানান মন্ত্রী।
তবে বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগের কারণে শেষ পর্যন্ত খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক উদ্যোগে আগের বছরের তুলনায় বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে।

