ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এবং অন্যজন খুলনা বিভাগে মারা গেছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল আটটা পর্যন্ত এই তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম ২২ দিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৩ জন। গত মাসে (অক্টোবর) ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৩৫, যা ছিল মাসিক হিসাবে এ বছরের সর্বোচ্চ।
চলমান সংক্রমণের পরিসংখ্যান-
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়, যেখানে একদিনে ১১২ জন রোগী হাসপাতালে গেছেন।
বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো-
– ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৬৭ জন
– খুলনা বিভাগ: ৬৫ জন
– চট্টগ্রাম বিভাগ: ৬২ জন
– দুই সিটি বাদে ঢাকা বিভাগ: ৫৮ জন
– রাজশাহী বিভাগ: ৪৭ জন
– ময়মনসিংহ বিভাগ: ২২ জন
– বরিশাল বিভাগ: ২০ জন
– রংপুর বিভাগ: ২ জন
– সিলেট বিভাগ: ১ জন
চলতি মাসের ২২ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৯ জন। এর আগে অক্টোবর মাসে ৩০ হাজার ৮৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। পুরো বছর জুড়ে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৮২৬ জন।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় এখনও মারাত্মক অবস্থায় রয়েছে। গত বছর ডেঙ্গুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু উভয়ই রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। সেসময় ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
এ বছরের পরিস্থিতি এখনও তুলনামূলকভাবে কম হলেও ডেঙ্গুতে মৃত্যু ইতোমধ্যেই ৪৩৮ জনে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগর এলাকায় অপরিকল্পিত জলাবদ্ধতা এবং সচেতনতার অভাব ডেঙ্গুর এই দীর্ঘায়িত সংকটের প্রধান কারণ।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হচ্ছে। মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মশার কামড় থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

