সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা শুরুর কিছুক্ষণ পরই সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। দলটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম জানান, সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তাঁরা সভা ছেড়েছেন। রোববার বেলা তিনটার দিকে তিনি ও দলের আরেক প্রতিনিধি সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। বিকেল পাঁচটার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
রোববার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিটির এই মতবিনিময় শুরু হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন নেতার তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১২টি দলের প্রতিনিধি সেখানে যোগ দেন। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত কাইয়ুম ও দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। সভার শুরুতে প্রথম বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
হাসনাত কাইয়ুম বলেন, তাঁরা মতবিনিময়ে অংশ নিয়েছিলেন। তবে বিকেল তিনটার দিকে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে সভার মাঝপথে বেরিয়ে আসেন। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান সংস্কারের পদ্ধতি নিয়েই মূল আপত্তি। এ কারণেই তাঁরা প্রতিবাদ জানাতে সভায় গিয়েছিলেন।
সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত ছিল সংবিধানের কোন কোন বিষয়ে সংস্কার হবে, তা নিয়ে। কিন্তু পদ্ধতি নিয়ে তাদের কোনো ভিন্নমত ছিল না। তাঁর দাবি, সংস্কারের যে পদ্ধতি সব মহলে গৃহীত হয়েছিল, সেটি অনুসরণ করা হয়নি।
সভায় তিনি একটি দাবিও তুলেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, বাস্তবায়ন আদেশে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল। সেই সময়সীমা এখনো বহাল আছে। তাই সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে জানানো হয়েছে। কমিটি গত ৪ আগস্ট প্রথম বৈঠক করেছিল।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা দলগুলোকে এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সভায় যাননি।
সব মিলিয়ে, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার শুরুতেই কয়েকটি দলের অনুপস্থিতি এবং একটি দলের মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াটির অংশগ্রহণমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কমিটির ব্রিফিংয়ে এসব আপত্তি নিয়ে কী বলা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

