সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উঠেছে। সরকার গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অনলাইনের অপব্যবহার ঠেকানোর কথা বলছে। উদ্দেশ্য মহৎ হলেও প্রশ্ন হচ্ছে একই শাস্তিমূলক আইনে প্রতারককে ধরা এবং সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা কি সম্ভব? সংবিধান, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক আইন এক কথা বলছে: অপরাধ দমন আর গণমাধ্যমের সুরক্ষা এক পাতায় মেশানো যায় না।
চারটি আলাদা কাজ, এক আইনে গোলমাল
অনলাইন নিয়ন্ত্রণে সরকারের সামনে মূলত চারটি ভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, সাইবার অপরাধ (প্রতারণা, অবৈধ জুয়া, হ্যাকিং) দমন ও অপরাধীকে শাস্তি। দ্বিতীয়ত, নাগরিককে হয়রানি, ডিপফেক ও সহিংসতা থেকে সুরক্ষা। তৃতীয়ত, ফেসবুক, গুগলসহ বড় প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। চতুর্থত, সাংবাদিকতাকে অন্যায় চাপ ও সেন্সরশিপ থেকে রক্ষা করা।
প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন ধরনের হাতিয়ার প্রয়োজন। ফৌজদারি আইন প্রয়োজন প্রতারণা ও নিষিদ্ধ কার্যকলাপের জন্য। দ্রুত প্রতিকার ও স্পষ্ট সংজ্ঞা লাগে হয়রানির শিকারদের জন্য। স্বচ্ছতা, আপিলের সুযোগ ও স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব লাগে প্ল্যাটফর্মের জন্য। আর সংবাদমাধ্যমের জন্য লাগে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও সূত্রের সুরক্ষা। এই চারটিকে এক শাস্তিমূলক কাঠামোতে ঢোকালে আসল অপরাধী পার পেয়ে যায়, সমালোচক ও সাংবাদিক ফাঁদে পড়ে।
অতীতের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং পরবর্তী সাইবার নিরাপত্তা আইনগুলোর প্রয়োগে একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে। অস্পষ্ট শব্দ, জামিন অযোগ্য ধারা এবং তৃতীয় পক্ষের মামলার সুযোগ সাংবাদিক, সম্পাদক ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজসহ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শত শত সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে, অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মামলার প্রক্রিয়াই শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ জবাবদিহি করেনি।
নতুন প্রস্তাবে “গুজব” ও “বিভ্রান্তিকর তথ্য”-কে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের অপরাধ বানানোর কথা উঠেছে। সংজ্ঞা এত বিস্তৃত যে “অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত” তথ্য যা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তাই অপরাধ হতে পারে। কিন্তু অনেক সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা মিসইনফোর্মড হইয়ে ভুল নিউজ আসলে তার দায় ভার কে নিবে
সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড
বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তবে “রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা বা নৈতিকতা” ইত্যাদি স্বার্থে আইন করে যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরোপ করা যায়। আদালত দেখে বাধানিষেধ স্পষ্ট, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক কি না। “অপপ্রচার” বা “অনুভূতিতে আঘাত”-জাতীয় অস্পষ্ট শব্দ এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশ ২০০০ সালে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে (ICCPR) যোগ দিয়েছে। এর ১৯ অনুচ্ছেদ বলে, বাধানিষেধ আইনে থাকতে হবে, বৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং তা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির জেনারেল কমেন্ট ৩৪ স্পষ্ট করেছে—সরকারের সমালোচনা দমনে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে না এবং মানহানির শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড উচিত নয়। মানহানি মূলত ব্যক্তিগত ক্ষতি; তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিই মামলা করবেন—ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৯ ধারা এই নীতির দিকেই ইঙ্গিত করে। একই অপরাধে একাধিকবার বিচার নিষিদ্ধ করে সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদ।
ইউরোপীয় মিডিয়া ফ্রিডম অ্যাক্ট (রেগুলেশন ২০২৪/১০৮৩)
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে এই আইন পাস করেছে। আইনের বেশিরভাগ ধারা ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইন সাংবাদিকতা রক্ষার জন্য আলাদা করে তৈরি। বাংলাদেশের আলোচনায় এর কয়েকটি ধারা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
অনুচ্ছেদ ৪: সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও সূত্রের সুরক্ষা
সদস্য রাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতি ও সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সূত্র জানতে সাংবাদিককে চাপ দেওয়া, তাঁর যোগাযোগে আড়ি পাতা বা স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ব্যতিক্রম শুধু কঠোর শর্তে থাকতে পারে, যেমন গুরুতর অপরাধের তদন্তে আদালতের আগাম অনুমতি নিয়ে। সাংবাদিক ও সম্পাদকীয় কর্মীদের কার্যকর বিচারিক সুরক্ষার অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৫: সরকারি অর্থে চলা সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে। প্রধানের নিয়োগ ও অপসারণে স্বচ্ছ নিয়ম থাকবে। তহবিল হবে স্থিতিশীল।
অনুচ্ছেদ ৬: সংবাদমাধ্যমকে তার মালিক কে, তা প্রকাশ করতে হবে। এতে পাঠক বুঝতে পারে, খবরের পেছনে কার স্বার্থ আছে।
অনুচ্ছেদ ৭ থেকে ১৩: স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা- প্রতিটি দেশে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকতে হবে। ইউরোপীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য গণমাধ্যম বোর্ড কাজ করবে।
অনুচ্ছেদ ১৮: এই ধারা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কাজের। ইউরোপে ৪ কোটি ৫০ লাখের বেশি মাসিক ব্যবহারকারী আছে, এমন বড় প্ল্যাটফর্মকে একটি সুবিধা রাখতে হয়। সংবাদমাধ্যম সেখানে নিজেকে স্বাধীন ও নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে। এরপর প্ল্যাটফর্ম ওই সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট বন্ধ করতে বা তার দৃশ্যমানতা কমাতে চাইলে দুটি কাজ করতে হয়। প্রথমে কারণ ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দিতে হয়। তারপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। সংকটকালে সময় আরও কম হতে পারে। জবাব শোনার পর প্ল্যাটফর্ম সিদ্ধান্ত নিলে সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানাতে হয়।
এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো। আইন সরকারকে নয়, প্ল্যাটফর্মকে বাধ্য করেছে। আর সংবাদমাধ্যমকে কোনো সরকারি অনুমতি নিতে হয় না। সে নিজেই ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৩
যুক্তরাজ্য ২০২৩ সালে এই আইন পাস করেছে। মূল লক্ষ্য শিশু ও ব্যবহারকারীকে অনলাইনের ক্ষতি থেকে বাঁচানো। তবে আইনে সংবাদমাধ্যমের জন্য আলাদা সুরক্ষাও আছে। এই সুরক্ষা প্রধানত সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলোকে আইনে “ক্যাটাগরি ১” সেবা বলা হয়।
১৭ ধারা: গণতান্ত্রিক গুরুত্বের কনটেন্ট- রাজনৈতিক বিতর্কে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মকে সুরক্ষা দিতে হয়। সংবাদ প্রকাশকের কনটেন্টও এর মধ্যে পড়ে। প্ল্যাটফর্ম রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারবে না।
১৮ ধারা: সংবাদ প্রকাশকের কনটেন্ট- স্বীকৃত সংবাদ প্রকাশকের কনটেন্ট সরানোর আগে বা তাঁর অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে প্ল্যাটফর্মকে কয়েকটি ধাপ মানতে হয়। প্রথমে নোটিস দিয়ে জানাতে হয়, কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেন। প্রকাশককে যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে হয় আপত্তি জানানোর জন্য। প্ল্যাটফর্ম সেই আপত্তি বিবেচনা করে, তারপর সিদ্ধান্ত জানায়। ব্যতিক্রম আছে। কনটেন্ট দ্রুত না সরালে প্ল্যাটফর্মের আইনি দায় তৈরি হলে, অথবা কনটেন্ট নির্দিষ্ট অপরাধ হলে আগে নোটিস না দিয়েও সরানো যায়। তখন পরে দ্রুত প্রকাশককে জানাতে হয় এবং সিদ্ধান্ত পাল্টানোর অনুরোধের সুযোগ দিতে হয়।
১৯ ধারা: সাংবাদিকতামূলক কনটেন্ট- সাংবাদিকতার উদ্দেশ্যে তৈরি কনটেন্ট শুধু স্বীকৃত প্রকাশকের নয়, সাধারণ ব্যবহারকারীও তৈরি করতে পারে। প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহারের শর্তে পরিষ্কার ভাষায় জানাতে হয়, এমন কনটেন্ট তারা কীভাবে রক্ষা করে। কনটেন্ট সরানো হলে দ্রুত অভিযোগ করার ব্যবস্থা থাকতে হয়। অভিযোগ ঠিক প্রমাণিত হলে কনটেন্ট ফিরিয়ে দিতে হয়।
২২ ধারা: মতপ্রকাশ ও গোপনীয়তা- প্ল্যাটফর্মকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালানোর সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার গুরুত্ব বিবেচনা করতে হয়।
৫৫ ও ৫৬ ধারা: কে স্বীকৃত সংবাদ প্রকাশক- ৫৫ ধারা “সংবাদ প্রকাশকের কনটেন্ট” সংজ্ঞায়িত করেছে। এই কনটেন্টকে সাধারণ ব্যবহারকারীর কনটেন্টের নিয়ম থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। ৫৬ ধারা বলেছে, কে “স্বীকৃত সংবাদ প্রকাশক” হবে। এর জন্য সাধারণভাবে সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ, প্রকাশিত মান, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং দায়ী ব্যক্তির পরিচয়ের মতো শর্ত দেখা হয়। সরকারের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করা হয়নি।
তবে কিছু আইনবিশেষজ্ঞ বলেছেন, ১৮ ধারার অনেক ব্যতিক্রম আছে। তাই সুরক্ষা বাস্তবে যতটা দেখায়, ততটা জোরালো নাও হতে পারে। আইনটির অন্যান্য অংশ নিয়ে গোপনীয়তা ও বয়স যাচাইয়ের উদ্বেগও আছে। তবু সংবাদমাধ্যম সুরক্ষার কাঠামো হিসেবে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
অন্য দেশ কী করছে
নর্ডিক দেশ। সুইডেনের মতো দেশ সংবিধান পর্যায়ে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের সূত্রের গোপনীয়তা রক্ষা করে। সেখানে প্রেস কাউন্সিল ও ওমবাডসম্যান নৈতিকতার বিষয় দেখে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে এই দেশগুলো সবসময় সামনের সারিতে থাকে।
সিঙ্গাপুর। সেখানকার অনলাইন মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ আইন মন্ত্রীদের হাতে সংশোধন ও সরানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যে মানুষ ভয় পায় বলে আইনটি বহুল সমালোচিত।
ভারত। ২০১৫ সালে শ্রেয়া সিংঘাল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ক ধারা বাতিল করেছে। কারণ ধারাটি অনলাইন বক্তব্যকে অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে অপরাধ বানিয়েছিল।
এই উদাহরণগুলো একটি শিক্ষা দেয়। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় এগিয়ে থাকা দেশগুলো প্ল্যাটফর্মকে নিয়ম মানিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। সাংবাদিকতাকে তারা স্বাধীন স্বনিয়ন্ত্রণের হাতে ছাড়ে। যেখানে মন্ত্রী বা নিরাপত্তা সংস্থা “মিথ্যা” ঠিক করে দেয়, সেখানে মানুষ কথা বলতে ভয় পায়।
যা করা দরকার
১. আইন আলাদা করা। সাইবার অপরাধ, প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি এবং সাংবাদিকতা সুরক্ষার জন্য তিনটি আলাদা আইন হবে।
২. মানহানিতে কারাদণ্ড বাতিল। দেওয়ানি প্রতিকার, সংশোধন ও জবাব দেওয়ার অধিকার থাকবে।
৩. মামলার নিয়ম ঠিক করা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিই শুধু মানহানির মামলা করবেন। একটি ঘটনায় একটি মামলা হবে। বাকস্বাধীনতার অপরাধ জামিনযোগ্য হবে। সাংবাদিক গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি লাগবে।
৪. সূত্রের সুরক্ষা আইনে আনা। ইউরোপের ৪ অনুচ্ছেদের আদলে সাংবাদিককে সূত্র প্রকাশে বাধ্য করা এবং তাঁর যোগাযোগে নজরদারি নিষিদ্ধ হবে। ব্যতিক্রম শুধু আদালতের আগাম অনুমতিতে।
৫. স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন। স্থায়ী কমিশন স্বনিয়ন্ত্রণ দেখবে এবং জাতীয় নৈতিকতা বিধি কার্যকর করবে। নিয়োগ, বাজেট ও মেয়াদে তার স্বাধীনতা আইনে নিশ্চিত থাকবে। এটি ইউরোপের ৭ থেকে ১৩ অনুচ্ছেদের ধারণার কাছাকাছি।
৬. সংবাদমাধ্যমের জন্য নোটিস ও জবাবের সুযোগ। ইউরোপের ১৮ অনুচ্ছেদ ও যুক্তরাজ্যের ১৮ ধারার আদলে বড় প্ল্যাটফর্ম কোনো স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট সরানোর আগে কারণ জানাবে এবং জবাব দেওয়ার সময় দেবে। জরুরি ক্ষেত্রে আগে সরিয়ে পরে জানানোর ব্যতিক্রম থাকবে।
৭. স্বীকৃতির শর্ত সরকারের হাতে নয়। যুক্তরাজ্যের ৫৬ ধারার মতো সম্পাদকীয় মান, অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয় দেখে স্বীকৃতি ঠিক হবে। সরকারের অনুমোদনকে শর্ত করা যাবে না।
৮. মালিকানার স্বচ্ছতা। ইউরোপের ৬ অনুচ্ছেদের মতো সংবাদমাধ্যম তার মালিকানার তথ্য প্রকাশ করবে।
৯. প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা। প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত প্রতিবেদন দেবে, কনটেন্ট সরানোর কারণ জানাবে, আপিলের সুযোগ রাখবে এবং দেশে আইনি প্রতিনিধি নিয়োগ করবে।
১০. ভুয়া তথ্যে স্বচ্ছতা আগে। স্বাধীন ফ্যাক্ট চেকারদের সহায়তা, নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের তথ্য প্রকাশ এবং সংগঠিত অপপ্রচার চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
১২. নিয়মিত পর্যালোচনা। দুই থেকে তিন বছর পর সংসদ আইনটি পর্যালোচনা করবে। প্রতিবছর মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ হবে।
ভুয়া তথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো জরুরি। কিন্তু এর দাম যদি হয় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, তাহলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়। সংবিধান, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের আইন একই কথা বলছে। অপরাধীকে শাস্তি দিন, প্ল্যাটফর্মকে জবাবদিহির আওতায় আনুন এবং সাংবাদিকতাকে সুরক্ষা দিন। তিনটি কাজ তিন আলাদা আইনে হলে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যম, দুজনই নিরাপদ থাকবে।

