বাংলাদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নাম বদলে এখন থেকে স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট বা এসআরইউ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ ৩ শাখা সম্প্রতি এ বিষয়ে সরকারি অনুমোদন দিয়েছে। অর্থ বিভাগের জিও পৃষ্ঠাঙ্কনের তারিখ থেকে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, শুধু নাম পরিবর্তনের কারণে পুলিশের অনুমোদিত পদের সংখ্যা বদলাবে না। নতুন নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত শর্ত মানতে হবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, এ বিষয়ে প্রচলিত সব বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কয়েকটি আগের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কী ছিল এটিইউর দায়িত্ব
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ২০১৭ সালে গঠন করা হয়। দেশজুড়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়।
শুরুতে এটিইউকে দেশব্যাপী কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ইউনিটটির সদর দপ্তর ঢাকায় রাখা হয় এবং এর জন্য ৫৮১টি পদ অনুমোদন করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে এটিইউ বিধিমালা জারি করা হয়। এর মাধ্যমে ইউনিটটি সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তের ক্ষমতা পায়।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাস দমন, সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে তদন্ত ও সমন্বয় ছিল এটিইউর মূল কাজ। ইউনিটটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানও পরিচালনা করত।
কেন নাম বদলানো হচ্ছে
নাম পরিবর্তনের ঘোষণা প্রথমে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সপ্তাহের একটি অনুষ্ঠানে তিনি নতুন কাঠামোর বিষয়ে কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এসআরইউর শাখা দেশের বিভিন্ন মহানগরে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শাখা সংশ্লিষ্ট মহানগর পুলিশ কমিশনারের অধীনে কাজ করবে। তবে এসআরইউর কেন্দ্রীয় কমান্ড ও শৃঙ্খলা একজন অতিরিক্ত আইজিপির অধীনে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের অন্য এলাকাতেও শাখা করা হতে পারে।
সিটিটিসিতেও পরিবর্তনের কথা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বা সিটিটিসিও নতুন কাঠামোর আওতায় আসবে।
ডিএমপির এই ইউনিটকে এসআরইউ ডিএমপি নামে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে আরও সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
তবে সরকারি নাম পরিবর্তনের আদেশে অনুমোদিত পদের সংখ্যা পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ এই আদেশটি মূলত এটিইউর নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।
এটিইউর নাম পরিবর্তনের পর এর আগের দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর কোন কোন অংশ বাস্তবে বদলাবে, তা নতুন কাঠামোর পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত ও আদেশে আরও স্পষ্ট হবে।

