বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে দলীয় নির্দেশে পদ ছাড়তে হওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি দলের ভেতরে জবাবদিহির একটি দৃশ্যমান বার্তা দেয়।
পদত্যাগের পেছনে রয়েছে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার, অর্থাৎ মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা। এই ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এরপর সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ধরন, অর্থাৎ তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন, নাকি অন্য কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট, তা প্রাপ্ত তথ্যে স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মিষ্টির নিজের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি, ফলে তাঁর পক্ষের ব্যাখ্যা এখনো অজানা।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দল আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক পর্যায়েও ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ঘটনাটিকে দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তা বোঝায়।
ঘটনার কয়েকটি দিক বিশ্লেষণের দাবি রাখে। প্রথমত, একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া সরাসরি জনসেবার ওপর আঘাত। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এই কেন্দ্র ভাঙার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, কে নির্দেশ দিয়েছিল এবং কেন্দ্রটির সেবা এখন কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য নেই। দ্বিতীয়ত, দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া এক বিষয়, আর আইনি প্রক্রিয়া ভিন্ন বিষয়। বহিষ্কার বা কমিটি বিলুপ্তি দলীয় শৃঙ্খলার অংশ, কিন্তু স্থাপনা ভাঙার ঘটনায় মামলা বা আইনানুগ তদন্ত হচ্ছে কি না, তা জানা যায়নি। তৃতীয়ত, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার ও দলীয় নেতৃত্ব জনরোষ সামাল দিতে চাইছে বলে ধারণা করা যায়, তবে এটি বিশ্লেষণমাত্র। প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত হবে তখনই, যখন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং দায়ীরা আইনের আওতায় আসবে।
এখন নজর থাকবে স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পর তা গৃহীত হলে সংরক্ষিত আসনটি শূন্য হবে, এবং সংবিধান ও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলার একটি কঠোর দৃষ্টান্ত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ীদের শনাক্ত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুনর্নির্মাণ বা সেবা চালুর উদ্যোগের ওপর।

