সাবরেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা আনতে লটারির পথে হাঁটল সরকার। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর জন্য লটারির মাধ্যমে ১৮ জন সাবরেজিস্ট্রার বাছাই করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কোনো সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না, আবার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড়ও দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে ঢাকা জেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর পদে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি ও পদায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাতারাতি সবকিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তবে কোথাও না কোথাও থেকে পরিবর্তনের কাজ শুরু করতেই হবে। লটারির মাধ্যমে বদলি সেই শুরুরই প্রথম ধাপ।
বদলির বিষয়ে প্রচলিত ধারণার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় পোস্টিংকে অনেকে ‘প্রাইস পোস্টিং’ হিসেবে দেখেন। সাধারণভাবে মনে করা হয়, ঢাকায় যাঁরা পদায়ন পান, তাঁরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকেন। সেই ‘প্রাইস পোস্টিংয়ের’ ক্ষেত্রেই এবার প্রথম লটারি হলো। তাঁর মতে, সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লটারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লটারিতে ঢাকা জেলার জন্য নির্বাচিত ১৮ জনকে কীভাবে বিভিন্ন স্থানে বসানো হবে, তা-ও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বিবেচনা করে পদায়ন করা হবে। অর্থাৎ লটারিতে বাছাইয়ের পর পদায়নের সময়ও যোগ্যতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপরও জোর দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দুর্নীতি রোধ করতে হলে সবার মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে দুর্নীতির যে আখড়া তৈরি হয়েছে, সরকার তা ভেঙে দিতে চায়। লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলি এই উদ্যোগেরই অংশ।
অনুষ্ঠানে সাবরেজিস্ট্রার পদের বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সারা দেশে সাবরেজিস্ট্রারের মোট পদ ৩৭২টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১৩৯টি পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৩৭ শতাংশ পদে লোক নেই। এই শূন্যতা সেবার মান ও কাজের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বদলির পাশাপাশি শূন্য পদ পূরণও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সম্পত্তির মালিকানা ও লেনদেনের নিরাপত্তা এসব অফিসের কাজের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সেবাগ্রহীতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, লটারির মাধ্যমে বদলি হলে পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য তদবির ও অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে। তবে শুধু লটারি দিয়ে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এর সঙ্গে নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা প্রদান জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ দিলে সেবার মান বাড়বে এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তিও কমবে।

