যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১৫ মিনিট আগে এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ততক্ষণে হাজার হাজার পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। নতুন তারিখ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জানানো হবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে।
আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় ১১তম গ্রেডের এই পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অধিদপ্তর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, অনিবার্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৈঠক চলছে। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে।
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ সত্য কি না, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
এখানে লক্ষণীয়, অধিদপ্তর স্থগিতের কারণ হিসেবে ‘অনিবার্য কারণ’ বললেও ফাঁসের অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। অভিযোগের তদন্ত হবে কি না, কিংবা কারা এর পেছনে জড়িত থাকতে পারেন, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি। তাই ফাঁসের অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায়।
শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার্থীদের ওপর। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন। যাতায়াত, থাকা ও প্রস্তুতির খরচ এবং মানসিক চাপ সামলে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা বাতিলের খবর তাঁদের জন্য বড় ধাক্কা। তিন লাখের বেশি প্রার্থীর পরীক্ষা নতুন করে আয়োজন করাও অধিদপ্তরের জন্য বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হবে।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এ দেশে নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনা সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাই নতুন তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে এখন নজর থাকবে।

