ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৫৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৬৩৬ জনে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য জানিয়েছে। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে বুধবার পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৭৬টি সরাসরি এবং ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩৩টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ২০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৩টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। অর্থাৎ দেশের জাতীয় ও বেসরকারি বিমান সংস্থার পাশাপাশি সৌদি এয়ারলাইনসগুলোও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি, এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি, সালাম এয়ারের সাতটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটে যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিজ নিজ দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এই বিমান সংস্থাগুলো ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি।
সম্প্রতি হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দাম্মামেও হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট বন্ধ রাখে। পরে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবে কর্মসূত্রে যেতে চাওয়া প্রবাসী, ওমরাহ যাত্রী ও ফিরতি যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ফ্লাইট কবে চালু হবে এবং আটকে পড়া যাত্রীরা কবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

