দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে আগামীকাল সোমবার থেকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ কার্যক্রম চালু করা হবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। সম্প্রতি প্রণীত ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে আজ রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশা তৈরি করতে হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী। আপাতত চালকদের লাইসেন্স লাগবে না। নিবন্ধন কার্যক্রম একটি পর্যায়ে পৌঁছানোর পর চালকদের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কে গতিসীমা থাকবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি রিকশায় স্পিডোমিটার রাখতে হবে। একটি ই-রিকশায় সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহন করা যাবে।
মহাসড়ক, ফ্লাইওভার ও এক্সপ্রেসওয়েতে ই-রিকশা চলতে পারবে না। এর বাইরে কোন কোন সড়কে চলবে, তা ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনা করে ঠিক করবে। প্রতিটি এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, সেই সিদ্ধান্তও তারাই নেবে।
পরিবেশ ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা নিয়েও নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার স্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকতে হবে। নতুন ব্যাটারি কেনার সময় দোকানে পুরোনো ব্যাটারি জমা দিতে হবে। পরে নির্ধারিত স্থানে এসব ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা হবে।
অঞ্চলভেদে ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আটটি জোনে ভাগ করে রং নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি ই-রিকশার আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর।
নিবন্ধনের ফিও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। দুই যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা, এক বছর পর নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। চার যাত্রী বহনে সক্ষম ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি রিকশার কিউআর কোডের জন্য সিটি করপোরেশন এক হাজার টাকা নিতে পারবে।
বর্তমানে যাঁরা রিকশা চালাচ্ছেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, চালকেরা পর্যায়ক্রমে নিজেদের রিকশা বুয়েটের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী উন্নীত করে নিবন্ধন করাতে পারবেন। এভাবে ধীরে ধীরে ই-রিকশা চলাচলব্যবস্থা চালু করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলা ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিয়মের আওতায় আনার এই উদ্যোগ সড়কের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিবন্ধন ফি, মানদণ্ড পূরণের খরচ ও এলাকাভিত্তিক সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়গুলো চালক ও মালিকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতটা সহজ ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং বিধিমালা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয়।

