রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফর, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় দুই নেতা শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিস্তারিত রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারকের বিষয়েও তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
পরে একান্ত আলোচনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার বিষয়বস্তু এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেন।
জাপান সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও উঠে আসে। দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁকে ধন্যবাদ জানান। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাপান সফরের বিষয়গুলোর পাশাপাশি সাক্ষাতে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। সৌজন্য সাক্ষাতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানান রাষ্ট্রপতি।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, একান্ত সচিব-২ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাপান সফরের ফলাফল এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার মধ্য দিয়ে দুই শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীর মধ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

