রাজবাড়ীর পাংশায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। স্কুল থেকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে পাংশা মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুই মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ বছর। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকাল ১১টার দিকে তারা স্কুলের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শেষ করে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। দুই বান্ধবী একসঙ্গে হাঁটছিল। কিন্তু পথে কসবামাজাইল ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় পৌঁছাতেই তাদের পথ আটকে দেয় দুই তরুণ—হাসমত আলী (২২) ও শিহাব মণ্ডল (২০)। ধারালো ব্লেড দেখিয়ে তাদের ভয় দেখায় এবং জোর করে কাছের একটি পানের বরজে নিয়ে যায়। সেখানে পৃথকভাবে তাদের উপর নৃশংস ধর্ষণ করে এই দুই তরুণ। ঘটনার পর তারা মেয়েদের ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, হাসমত ও শিহাব এর আগেও মাঝেমধ্যে এই দুই মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। এই ঘটনার পর তারা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত রোববার রাতে মেয়েদের পরিবার পাংশা মডেল থানায় এসে পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করে। একজনের মা ও অপরজনের বাবা বাদী হয়ে হাসমত ও শিহাবের নামে মামলা করেন। এরপর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে শিহাব মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। তবে হাসমত এখনো পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালাচ্ছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন রাত পৌনে ১২টার দিকে বলেন, “গ্রেপ্তার শিহাব পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তার পোশাক থেকেও অপরাধের আলামত পাওয়া গেছে। সোমবার তাকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি করছেন।

