ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ের কথিত গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছে। তিনি বলেন, “তোমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলে, তাতে সাধারণ মানুষ গিয়ে প্রতারিত হয়েছে। অধিকাংশ লোক, এমনকি ছাত্ররাও- এখন সেখান থেকে সরে যাচ্ছে এবং বলতে শুরু করেছে- আমরা প্রতারিত হয়েছি।”
গত ২ জুলাই রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টুর স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘১৯৭১ এর রণাঙ্গনের সাথীরা’ এই শোকসভার আয়োজন করে।
এম এম আকাশ আরো বলেন, “জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা নিজেরাই বলছেন- অনেক চুরি হয়েছে, অনেক লুটপাট হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো- এই লুটপাটকারীদের আশ্রয় কে দিয়েছে? কে তাদের ক্যান্টনমেন্টে রাজার হালে রেখেছে? কেন তাদের বিচার করা হচ্ছে না? যদি এই প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া হয়, তাহলে বুঝতে হবে- লুটপাট দমন এদের উদ্দেশ্য নয়।“
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দুটি পথ রয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে স্বীকার করা যে আন্দোলনের নামে মানুষ প্রতারিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো- আন্দোলনের যে দুটি প্রধান দাবি ছিল, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসন, তার কোনোটিই পূরণ করা হয়নি।
এম এম আকাশ বলেন, “বৈষম্য নিরসনের জন্য দরকার ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা। কিন্তু এতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আর গণতন্ত্রের পরিবর্তে তারা তৈরি করেছে একটি ‘রাজার দল’। ক্ষমতায় বসে ‘রাজার দল’ তৈরি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি আরো অভিযোগ করেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তারা সংস্কারের নামে সাত হাজার পৃষ্ঠার বই তৈরি করেছে, যার রচয়িতারা সবাই বিদেশি। এই সংস্কার কার্যকর করার কোনো রাজনৈতিক সদিচ্ছা নেই। বইটি তাই এখন মূল্যহীন। অবশেষে, লন্ডনে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে তারা ঠিক করেছে- নির্বাচন ছাড়া উপায় নেই। সেই আলোচনার ফলেই এখন বলা হচ্ছে, নির্বাচন হবে ফেব্রুয়ারি না হয় এপ্রিলে। অর্থাৎ, এখন বিষয়টি আটকে আছে- ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভোট হবে।”

