বাংলাদেশের মুদ্রণ শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সংগঠন বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি অবশেষে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলো। সরকার সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এতে অবসান হলো দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ রেহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অভিযোগের মুখে পদ হারালেন সমিতির সভাপতি রব্বানী জব্বার। তিনি সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই। সরকারের পতনের পরও তিনি পদে বহাল ছিলেন। এমনকি গেল সপ্তাহেও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন—যা মুদ্রণখাতের অনেক সদস্যের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে।
তথ্য অনুযায়ী, রব্বানী জব্বার গত বছর ১ কোটি ৪৭ লাখ বই ছাপার কাজ পেয়েছিলেন। যদিও সমিতির কার্যক্রমে তার সরাসরি উপস্থিতি ছিল না, তবুও গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করতেন।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসককে ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে নতুনভাবে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।
এ বিষয়ে রিমিনি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও সমিতির সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, “বিগত সরকারের আমলে নির্বাচন ছিল প্রভাবিত। বর্তমান কমিটি বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনিই গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেন।
এর জবাবে কমিটি হাইকোর্টে রিট করে। পাল্টা রিট করেন মোহাম্মদ আলীও। এর মধ্যেই মন্ত্রণালয় কারণ দর্শানোর জন্য বর্তমান কমিটিকে সময় দেয়। কিন্তু তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের বিভিন্ন অনিয়ম, কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থতা, বিলুপ্তির আবেদন ও আইনগত ব্যত্যয়ের কারণে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের অনেক সদস্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে এখন প্রতিষ্ঠানটি আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক পথে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি তারা আশা করছেন, প্রশাসক অনিয়ম তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

