জাতীয় ঐকমত্য কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি না থাকায় তীব্র প্রশ্ন তুলেছে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন। সংগঠনটি বলছে, দেশের ৮ শতাংশ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে কোনো জাতীয় ঐক্য গঠন করা যায় না, অথচ কোনো রাজনৈতিক দলও এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলে না।
আজ শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করা হয়। ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে ৮% জনগোষ্ঠীর অবস্থা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) তরুণ রায়।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আগেও এবং পরেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হলেও তাদের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা দেখা যায় না। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা ভোটকেন্দ্র বয়কটের মতো সিদ্ধান্তে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ বেড়ে যায় এবং ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে তারা সংগঠিত হয়ে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ সাংবিধানিক নিরাপত্তা। এসব দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, গত ৫৩ বছরে কোনো সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। আগামী দিনের জন্য সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঘোষিত ৮ দফা বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সেই দাবিগুলোকে শক্তিশালী করতে আগামী ২২ আগস্ট ‘জাতীয় সংখ্যালঘু সম্মেলন ২০২৫’-এর আয়োজন করা হবে।
সংগঠনের আহ্বায়ক সুস্মিতা কর বলেন, “সরকারের ঐকমত্য কমিশনে সংখ্যালঘুদের কোনো প্রতিনিধি নেই। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নিয়েই সেখানে ঐকমত্যের চেষ্টা চলছে। অথচ গত বছরের ৯ আগস্ট থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে আছে। ৮ দফা দাবির বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এসব দাবি আমলে না নিলে ভোট বয়কটের মতো সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুরা নিতে বাধ্য হতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক সুব্রত বল্লভ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আদিবাসী সংগঠক সুমন ত্রিপুরা।

