জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ পেতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, সরল পথে দাবি আদায় না হলে রাজপথে আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শাপলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালানো হবে। মূল লক্ষ্য হলো প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে নিজের অবস্থান দৃঢ় করা এবং টিকে থাকার অগ্নিপরীক্ষা দেওয়া।
শিগগিরই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া আদালতে আইনি লড়াই চালানোর প্রস্তুতিও চলছে।
দল নিশ্চিত করেছে, শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করা হবে না। এনসিপি নেতারা বলছেন, এই লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা চুপচাপ থাকবেন না।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, শাপলা প্রতীক বরাদ্দে আইনগত কোনো বাধা নেই। পূর্বে ইসি শাপলা বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছিল, এমনকি ইসির পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর ঘোষণা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী কোনো সংস্থার চাপের কারণে ইসি পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এটি মূলত নির্বাচন নিয়ে পুরনো ফ্যাসিস্ট পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছু নয়।
বৃহস্পতিবার এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় প্রতীকের চারটি উপাদানের মধ্যে শাপলা একটি। অন্য উপাদানগুলো ইতিমধ্যে বিএনপি ও জেএসডির মধ্যে ভাগ করা হয়েছে।
এনসিপি নেতারা মনে করেন, জাতীয় ফুল শাপলা হওয়ায় এটিকে দলীয় প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা নেই।
দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক লিয়াজোন কমিটির প্রধান আরিফুল ইসলাম আদীব বলেছেন, ‘আমরা আশা করি ইসি বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে। শাপলা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে যদি না হয়, আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। রাজনৈতিক লড়াই এবং রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ছাড়া দাবি আদায়ের উপায় থাকবেনা।’
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে জানিয়েছেন, ‘যেহেতু আইনগত কোনো বাধা নেই, তাই আমাদের মার্কা শাপলা নিশ্চিত করতে হবে। অন্য কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন কীভাবে হবে, কে ক্ষমতায় যাবে, সেটা আমরা দেখব।’
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তাদের ১১৫টি নির্ধারিত প্রতীকের তালিকায় শাপলা নেই। তাই এনসিপিকে অন্য কোনো প্রতীক বেছে নিতে হবে। এই ঘোষণার পরই দলের নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।
এনসিপির এক নেতা বলেন, ‘বর্তমান কমিশন বাইরে স্বাধীনতার কথা বললেও- তারা কার্যত একটি দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য খারাপ নজির স্থাপন করবে।’
পূর্বে ২২ জুন এনসিপির নিবন্ধনের আবেদনেও শাপলার পাশাপাশি বিকল্প প্রতীক হিসেবে ‘কলম’ বা ‘মোবাইল’ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দলের শাপলা নিয়ে কঠোর অবস্থানের প্রকাশ ঘটেছে। সেই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বৈঠক হয়। বৈঠকে দল শাপলা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
এনসিপির নেতারা বলছেন, শাপলা প্রতীক পেলে তা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যত প্রভাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শাপলা ছাড়া অন্য প্রতীক গ্রহণ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। দল আইনি এবং রাজনৈতিক সব হাতিয়ার ব্যবহার করে এই দাবি আদায় করবে।

